৮৯টি ওয়েবসাইট সার্চের পর আত্মহত্যা

0

নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// টানা ৪৮ ঘন্টা ধরে রিসার্চ। খুঁটিয়ে দেখেছেন মরতে গেলে কী করতে হবে। আত্মহত্যা করতে কী করতে হবে, কিভাবে করতে, কতক্ষণে করতে হবে, সব কিছু খুঁটিয়ে দেখে তবেই ১৩ তলা থেকে ঝাঁপ মেরেছেন বেঙ্গালুরুর বছর ২৬-এর ইশা হানডা।

পুলিশ যখন মৃতদেহ উদ্ধার করে, তখন সব শেষ। ২৬ বছরের ঝকঝকে তরুণী তখন মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ইশার ব্যাগ, স্মার্ট ফোন, দড়ি এবং কিছু মারিজুয়ানার প্যাকেট উদ্ধার করেছে।

জানা যাচ্ছে, দিনভর গুগুল সার্চ করে তবেই আত্মহত্যা করেছেন ইশা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ইশার স্মার্ট ফোন উদ্ধার করেছে। সেটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে ইশা ৮৯টি ওয়েবসাইট সার্চ করেছে।

আরও পড়ুন: হ্যাকার ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ ডলার!

মূলত, কিভাবে আত্মহত্যা করতে হবে? বিষপান না গলায় দড়ি, না ট্রনের সামনে ঝাঁপ, কোনটা করলে তাড়াতাড়ি মরণ হবে, সে বিষয়ে জেনেছেন। তারপর সেই মোক্ষম দাওয়াই। এগুলোর থেকে কোনও বহুতল থেকে ঝাঁপ মারলে তাড়াতাড়ি মরণ হবে। যেমন ভাব তেমন কাজ। সব কিছু ভেবে ইশা রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁর কোকোনাট গ্রোভ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হন।সেখান থেকে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে চলে যান শোভা ক্ল্যাসিক বিল্ডিংয়ের সামনে।

জানা যাচ্ছে, ইশা যেখানে থাকতেন, সেখানকার সবচেয়ে উঁচু বাড়ি হলো শোভা ক্ল্যাসিক বিল্ডিং। তবে, ঢুকতে গিয়ে যাতে নিরাপত্তারক্ষীরা আটকাতে না পারেন, তার জন্য ইশার পরীক্ষানিরীক্ষাও কম ছিল না। ৪টের সময় শোভা ক্ল্যাসিক বিল্ডিংয়ের সামনে পৌঁছনোর পর ৮টা পর্যন্ত ইশা চারপাশ ঘুরে দেখেন। ১৩ তলা বাড়ি থেকে ঝাঁপ দিলে, বাঁচার আর কোনও সম্ভাবনা থাকবে কিনা, সেটারও ময়নাতদন্ত করেন। এরপর সাড়ে আটটা নাগাদ ১৩ তলা থেকে ঝাঁপ মারেন ইশা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সেখান থেকে ইশার রক্ত মাখা দেহ উদ্ধার করে।

শিক্ষিত, স্মার্ট ফ্যাশন ডিজাইনার ইশার ”স্টে গ্ল্যাড” নামে একটি সংস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি, থিয়েটারও করতেন ইশা। কী হয়েছিল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে, ইশার রুমমেট জানিয়েছেন, সেদিন ৪টে নাগাদ ইশা বাড়ি ছেড়ে বের হন। জানিয়ে যান, ব্যক্তিগত কিছু কাজ রয়েছে তাই ফিরতে অনেক দেরি হবে। সেই শেষ, তারপর ইশার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বছর ২৬-এর ঝকঝক ইশা কেন আত্মহত্যা করলেন, সে বিষয়ে পুলিশ ধন্দে। পাশাপাশি, তাঁর আত্মহত্যার অভিনব কায়দা দেখেও হতবাক পুলিশ। কী করে একজন মানুষ মরার আগে এভাবে সব কিছু ঠান্ডা মাথায় খুঁটিয়ে দেখতে পারেন, তা নিয়ে সন্দেহ কাটছে না পুলিশের। তবে, ইশার ব্যাগ থেকে আড়াইশো গ্রামের যে মারিজুয়ানার প্যাকেট মিলেছে, তাতে পুলিশ নিশ্চিত যে, মৃত্যুর আগে ইশা অত্যাধিক মাত্রায় নেশা করেছিলেন। না হলে এই কাজ করতে পারতেন না।

শুধু তাই নয়, ১৩ তলা থেকে ঝাঁপ দিলে যদি মৃত্যু না হয়, তার জন্য দড়িও ব্যাগে রেখেছিলেন ইশা। কোনওক্রমে প্রথমটি সফল না হলে, দ্বিতীয়টি দিয়ে চেষ্টা করবেন বলে। পারিবারিক বা প্রেম ঘটিত কারণেই ইশা আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

সূত্র: ওয়েবসাইট

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন