প্রযুক্তির উন্নয়নের জোয়ারে পোর্টেবল ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটসগুলো এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, প্রিন্টার, স্ক্যানার, স্মার্টফোন, ভিডিও গেইমস কনসোল ছাড়া দৈনন্দিন জীবন এখন কল্পনা করাও কঠিন কাজ।

তবে ভালোমানের বা ব্রান্ডের ডিভাইসগুলো কিনতে খরচ পড়ে যায় অনেক বেশি। পাশাপাশি কেনার পর অন্যান্য আনুসঙ্গিক দ্রব্যাদির দামটাও কম নয় আর ইলেক্ট্রিসিটি বিল তো আছেই। ফলে আয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় গ্যাজেটসগুলোর পেছনে।

ইলেক্ট্রকনিক গ্যাজেটস ও অনুসাঙ্গিক পণ্যের পেছনে খরচ বাঁচানোর কিছু উপায় বাতলে দিয়েছে ইয়াহু নিউজ।

১. দামটাই সব নয়: পয়সা বেশি দিলে ভালো পণ্য পাওয়া যায় কথাটি সঠিক, তবে তার মানে এই নয় যে বাজারের সবচেয়ে দামি পণ্যটিই ব্যবহার করতে হবে। জনপ্রিয় ব্রান্ডগুলোর এইচডিএমআই কেবল, চার্জিং কেবলগুলোর দাম আকাশছোঁয়া। তবে একটু মাঝারি দামের পণ্যগুলো দিয়েও ভালোভাবেই কাজ চালিয়ে দেওয়া যায় অনায়াসেই। যেমন টেলিভিশনের সঙ্গে ব্যবহারের জন্যে সবচেয়ে দামি এইচডিএমআই কেবল না হলেও চলবে। মাঝারি দামের ক্যাটাগরি ২ এইচডিএমআই কেবলেও থ্রিডি ভিডিও চলবে অনায়াসে। তাই বলে আবার একেবারেই সস্তা আর নিম্নমানের কেবল কেনা চলবে না।

২. কালি সাশ্রয়ী পিন্টার: প্রিন্টার কেনার আগে তা কতটুকু কালি খরচ করে সে বিষয়টি যেনে নেওয়া আবশ্যক। নইলে প্রিন্টারের কালি খরচ ছাড়িয়ে যেতে পারে প্রিন্টারের দামকে। এক্ষেত্রে একাধিক রংয়ের জন্য আলাদা আলাদা কার্টিজ ব্যবহার করে এমন প্রিন্টারগুলো কেনা যেতে পারে। সাধারণত এই প্রিন্টারগুলোর খরচ কম হয়ে থাকে।

৩. পুরানো ডিভাইসগুলো বিক্রি করা: প্রায় প্রতিদিনই বাজারে আসছে নিত্যনতুন গ্যাজেটস। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে নতুন ডিভাইসগুলো ব্যবহার করতে আগ্রহী কম-বেশি সবাই। নতুন ডিভাইসটি কেনার আগে পুরানো ডিভাইটি ক্লাসিফাইড সাইটগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই বিক্রি করে দিতে পারেন। এতে হাতে কিছু টাকা আসবে যা নতুন ডিভাইস কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ কমাবে।

৪. ডিভাইস প্লাগ-আউট করা: কাজ শেষে ডিভাইসগুলোর প্লাগ খুলে রাখার মাধ্যমে বাঁচাতে পারেন বিদ্যুতের অপচয়, কমাতে পারেন মাসিক বিদ্যুতবিলের অঙ্কটাও। এছাড়াও ‘এনার্জি-সেভিং’ ফিচার আছে এমন ডিভাইস কেনার মাধ্যমেও বাঁচাতে পারেন বিদ্যুৎ খরচ। কম্পিউটার স্ট্যান্ডবাই বা হাইবারনেট মোডে রেখেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যেতে পারে।

৫. দরদাম করা: ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস কেনার সময় দরদাম করেও গাঁটের পয়সা বাঁচানো সম্ভব। পেয়ে যেতে পারেন মূল্যছাড়ও। এছাড়াও চোখ রাখতে পারেন ইলেক্ট্রনিক্স স্টোরের অফারগুলোর উপর।

৬. ‘ইন-অ্যাপ-পারচেজ’ হতে সাবধান: স্মার্টফোনের গেইমসগুলোতে ‘কয়েন’, ‘জেমস’ ইত্যাদি কিনে কয়েক’শ ডলার খরচ করার ঘটনা প্রায়শই ঘটায় বাচ্চারা। ‘ইন-অ্যাপ-পারচেজ’ ফিচারগুলো অতিরিক্ত সহজ করার জন্য এরইমধ্যে ক্রেতাদের তোপের মুখে পড়েছে অ্যাপল। ‘ইন-অ্যাপ-পারচেজ’ আছে এধরনের গেইমস ফোনে না রাখা, আর থাকলেও বাচ্চাদের হাত থেকে সাবধানে রাখাই মঙ্গল।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন