নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// টিউশন ফি থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। আর সে কারনে ঢাকার সবগুলো সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। টিউশন ফি এর উপর ভ্যাট আরোপে রাজপথ যেমন উত্তাল তেমনি সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকও হয়েছে উত্তাল। চলুন দেখে নিই মত প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ফেসবুকের কি অবস্থা।

বিডিজবস ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর লিখেছেন, NBR just announced that students don’t need to pay VAT. It is already included in the tuition fee. Universities need to give that money to Govt. now.
So funny! Does that mean that Universities have been taking money from students for years and not paying to govt? If this is so, would that money be returned to the students now?

প্রথম আলো পত্রিকার ফিচার রিপোর্টার রাহিতুল ইসলাম রুয়েল লিখেছেন, শিক্ষা কি পণ্য, ভ্যাট কি জন্য’ চলছে আন্দোলন।

No Vat on Education-techzoom.tv 2

এ এম ইশতিয়াক সারওয়ার নামের একজন লিখেছেন, শিক্ষার উপর আরোপ করা ভ্যাট অবশ্যই সরকার এর তুলে নেয়া উচিত, এবার সেটা যেই লেভেলের শিক্ষাই হোক না কেন। আমার ৫ বছর এর বাচ্চা কে স্কুলে পড়াতে গিয়ে তার মাসিক বেতনের সাথে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এটা আরোপ করা টা অত্যাচার এবং অন্যায়, এখনো দিয়ে যাচ্ছি ভ্যাট। তাহলে কি ধরে নিতে হবে আমার বাচ্চা কেন ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়ছে এই অপরাধে তার উপর এই ছোট কাল থেকে ভ্যাট নেয়া হবে? তাহলে বাংলা মিডিয়ামে পড়ার সুব্যবস্থা করুক সরকার… আর ভ্যাট যদি নিতেই হয় তাহলে নিয়ম করে দেশের সব প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন এবং পরিচালণা বন্ধ করে দেয়া হউক।

হায়দার আলী নামের একজন লিখেছেন, ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রতিবাদে আন্দোলন করে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিন্তু একটি বিষয় আমি কোনভাবেই মিলাতে পারছি না। ওদের আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালে এম্বুলেন্স.ফায়ার সার্ভিস ও সাংবাদিকদের গাড়িসহ অতিব জরুরী পরিবহন রাস্তায় চলাচল করতে দেয়নি .কিন্তুু গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনও দেখেছি তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এইসব শিক্ষার্থীদের মতো এমন গোয়ার মনোভাব দেখিনি। অতি জরুরি পরিবহনের ক্ষেত্রে গার্মেন্টস কর্মীদের ছাড় দিতে দেখেছি। মানবিকতা এবং বাস্তবতার শিক্ষা গার্মেন্টস কর্মীদের কোন বিশ্ব বিদ্যালয় দেয়নি এটা ওরা উপলব্ধি করেই ছাড় দিয়েছে .কিন্তুু আজকে দেখলাম শিক্ষার্থীরা মানবিকতাকে ধুলোয় মাড়িয়ে চালিয়ে গেছে কর্মসূচি..

No Vat on Education-techzoom.tv 3

সোয়েব ইউ কবির নামের একজন লিখেছেন, শিক্ষার্থীরা নয়, ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ – এই সিদ্ধান্ত তো ঘুরে ফিরেই এক হয়ে গেলে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশিন ফি বর্ধিত করে নিবে। আর সে অর্থ দিয়েই ভ্যাট পরিশোধ করবে। শেষ কথা হলো, শিক্ষার জন্য টাকাটা কিন্তু আমার আপনার বাবার পকেট থেকেই বের করে নিয়ে যাবে সরকার। এদিকে বাসভাড়ার মতো সরকার ভাড়া ১ টাকা বাড়ালে অটোমেটিক ৩/৪গুন বেশি নেওয়া হয় যাত্রীদের কাছ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বাসের মতো ইচ্ছেমতো টিউশিন ফি নিয়ে গলাকাটা ব্যবসা করেই যাবে। হঠাৎ করেই হয়তো সামনের সেমিস্টার থেকে টিউশন ফি বৃদ্ধি করে দিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে কোন অজুহাত দিয়েই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা ফি বর্ধিত করতে না পারে। কারণ, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা শিক্ষাকে পুরো ব্যবসা হিসেবেই নিচ্ছে। আর এর যাঁতাকলে পিষে যাচ্ছে আমার মতো গরীব , মধ্যবিত্তরা। নির্দিষ্ট টিউশিন ফি‘র প্রস্তাবনা করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বিবেচ্য করে টিউশিন ফি কম বেশ হতে পারে। আর…শিক্ষার্থীদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলবে …..আগামীর ভবিষ্যত শিক্ষার জন্য টাকা খরচ করো আর ভালো থেকে।

গুপ্ত এসডি নামের একজন মতামত প্রকাশ করে লিখেছেন, প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রদেরকে দেখতে হবে যাতে আগামী সেমিস্টার থেকে তাঁদের বেতন বেড়ে না যায়। প্রত্যেক ছাত্রকে ভর্তির সময়ই তাঁর মোট খরচ জানিয়ে দিতে হবে ভার্সিটির, ডিগ্রীর মাঝখানে হুট করে কোর্সফি বা অন্য খরচ বাড়ানো চলবে না।

পার্থ সারথি কর নামের একজন লিখেছেন, সরকাল বলছে, সরকারে আয় বাড়াতে হবে ! তার মানে এই না যে এখন শিক্ষা খাতে কম ভুর্তিকি দিয়ে বা ভ্যাট আরোপ করে এটা করবে! উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষাখাতকে সবচেয়ে বেশী প্রাধান্য দেয়া হয় আর আমাদের দেশে মনে হয় উল্টো ! সব পলিটিকস আর বিশৃংখলা ঢুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়!
কিন্তু ৭০০+ কোটি টাকার কাজ কোন এলাকায় করার পরও যদি সেই এলাকার কোন সমস্যা সমাধান না হয় তাহলে সেখানে যে দুনীর্তি হয়েছে সেটার হিসেব কেন নেয়া হয় না কেন বা মুলা ঝুলিয়ে যেসব ব্যক্তি কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন উন্নতির নামে এসব কেন তদারকি হয়না!
আমরা এটাও বুঝতে পারছি যে, যে স্টেপগুলো নেয়া হচ্ছে এগুলো আসলেই দুরদশী এবং আমাদের দরকারী কিন্তু এসবের নাম করে যারা অতিরিক্ত খরচ করছেন বা ঠিক মত কাজ করছেন না এসবের হিসেব না করে যেগুলো দেশের উন্নতির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে সেখানেই শুধু নাক গলানো কেন !
এরকম কয়েকটা প্রজেক্টের ঠিক তদারকি করলেই তো অনেকটাকা বেচে যেত ! গরিব দেশ সুতরাং অন্তত দেশের প্রতি ভালবাসা থাকলে নিজের চিন্তা না করে টাকাগুলোর সঠিক ব্যবহার করাও দায়িত্বজ্ঞানের মধ্যে পড়ে!
নিজে একটি প্রাইভেট ভাসিটি পড়াই সেখান থেকেই উপলব্ধি ! প্রাইভেট মানে ই এইনা যে সবাই টাকা ওয়ালার সন্তানরা পড়তে আসে! আবার সরকারীতে পড়ে মানেই এইনা যে সবাই গরিব ! প্রয়োজনের তুলনায় সিটসংখ্যা কম হওয়ার কারনেই তো এখানে তারা আসে , এখানেও আপনাদের দায়িত্ব আছে ! সুতরাং এখানে সামঞ্জস্য আনুন !

ইকবাল খন্দকার নামের একজন লিখেছেন, নরমাল শিক্ষার উপর ভ্যাট না বসিয়ে ভ্যাট বসানো যেতে পারে ‘উচিত শিক্ষা’র উপর।

আবু সালমান মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ নামের একজন লিখেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট বাতিলের দাবীতে করা সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ব্যাবহারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

সৈয়দ আব্দুল কাদের অর্নব নামের একজন লিখেছেন, আমরা শিক্ষা খাতে ভ্যাট দিবো না, দরকার হলে গুলি খাবো।

No Vat on Education-techzoom.tv 4

নাজমাস সাদাত নিলয় নামের একজন লিখেছেন, আমাদের অর্থমন্ত্রীর সমস্যা উচ্চমার্গীয়। তার বিশেষ বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা একটু বেশিই হয়। তবে এই মেধাবী ও ত্যাগী মুক্তিযোদ্ধাকে এত নিচে না নামালেও পারতেন।কিন্তু স্বীকার করি তার পরিকল্পনা আর ব্যাবস্থাপনায় সাধারনের ছাপ নেই। যাই হোক এন বি আর আয়কর আর ভ্যাটের সংজ্ঞা ভুলে গেছে। উৎপাদক যখন ভোক্তা বনে যায়….।

সাব্বির হাসান লিখন নামের একজন লিখেছেন, সাবাশ বাংলার ছাত্র সমাজ …
আজ দেখিয়ে দিয়েছেন দাবী আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ অবস্থানই এনাফ…
এখন আসি এই প্রসঙ্গেরই একটু অন্য দিকে … সরকার বলছে ভ্যাট দিবে প্রতিষ্ঠান ছাত্ররা নয় …
বেসরকারী এসি করা বাসাতে ক্লাশ করিয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করা অবদি অরিজিনালি যত টাকা খরচ হয় আর তার চেয়ে কত বেশী টাকা খরচ করছেন সেটা একটু হিসাব করেন …
আসলেই শিক্ষা কোন পন্য না .. কিন্তু ডোনেশনের নামে যে কাড়ি কাড়ি টাকা কতৃপক্ষ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ফেলেছেন সেটাও মাথায় রাখা উচিৎ …
ভ্যাটম্যানের পাশাপাশি এইসব ধান্দাবাজ ব্যবসায়ী কতৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করুন … সফলতা আসবেই ..।

লুৎফর রহমান হিমেল নামের একজন লিখেছেন, আমার মোবাইল ফোনে এনবিআরের একটি এসএমএস এল একটু আগে। ভার্সিটি কর্তৃপক্ষকেই নাকি ভ্যাট দিতে হবে; শিক্ষার্থীদের নয়। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এটা মানতে বাধ্য করবে কে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থেকে নিজের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন করা সম্ভব নয়। সুতরাং সরকারকেই সেই কাজটা করতে হবে। কিন্তু সরকার এই মনিটরিংটা কখনোই করেনি।
আমার মেয়ে ধানমন্ডির একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ক্লাস টু-তে পড়ে। এমনিতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ নানা অযুহাতে প্রতিবছর বেতন-ফি বাড়ায়। এবার ভ্যাটের অযুহাতে এক লাফে ৮ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা করেছে তারা। সরকার নিশ্চয়ই ৪ হাজার টাকা বাড়ায়নি। এক বছরের ব্যবধানে এমন বড় অংকের বেতন-ফি বাড়ানোর রেকর্ড অতীতে নেই। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের এ শিক্ষাবাণিজ্য নিয়ে অসংখ্যবার নিউজ হয়েছে। কিন্তু সরকার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি, বা নেয়নি।
বলা হচ্ছে, বেসরকারি ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছল পরিবারের। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তারা সরকারি ভার্সিটিতে সুযোগ না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারিতে পড়ছে। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বলব, রাজধানীর ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ি, কলাবাগান, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানের মেসে গিয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখুন। তারা কি হালে আছে। তাদের সামর্থ্য দেখে আসুন। তাদের বেশিরভাগই টিউশনি করে, পার্টটাইম জব করে পড়ালেখা করছে। তাদের অনেকেই গ্রামের মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের। এ অবস্থায় তাদের শিক্ষার ওপর এই ভ্যাট আরোপের মাধ্যমে শিক্ষাবাণিজ্যকারীদের বাণিজ্য করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন না।
আজকে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে, সেখানে ভ্যাট ইস্যুর সাথে শিক্ষার্থীদের মুখ থেকে তাই শুনতে চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা-ব্যবসার বিরুদ্ধেও স্লোগান। মনে রাখতে হবে, খাওয়া-পরার মতো শিক্ষাও আমাদের মৌলিক অধিকার। সেটাকে রক্ষা করতে হবে। আর তা করতে না পারলে ভবিষ্যত অন্ধকার।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: “উপরের সকল স্টাটাস ‘পাবলিক’ হিসাবে প্রকাশ করেছে ব্যবহারকারী। সেখান থেকেই স্টাটাসগুলো নিয়ে উপরের ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে। স্টাটাসের দ্বায়ভার ব্যবহারকারীর নিজের। এক্ষেত্রে টেকজুম ডটটিভি কর্তৃপক্ষ কোন দায়ী থাকবে না। বিশেষ অনুরোধে কারো স্টাটাস তুলে নেয়ার সুযোগ রয়েছে।”

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন