নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// দেশের সবচেয়ে পুরাতন মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কাছে সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ টেলিকম নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মোট পাওয়া ২৪৬ কোটি ৮২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৪ টাকা। কয়েক দফায় এ টাকা পরিশোধের সময় দেওয়া হলেও পুনরায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে তা আর করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রণ কমিশন। শিগগির এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সিটিসেল বরাবর পাঠানো হবে বলে বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সিটিসেলের নিকট সরকারের বকেয়া পরিশোধের সময় সীমা বৃদ্ধি সম্পর্কে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণিত আলোচনা সভার অনুমোদিত কার্যবিবরণী মন্ত্রণালয় হতে ৩০ মার্চ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কমিশন বরাবর পাঠানো হয়।

উক্ত সভায় সিটিসেলের ব্যাপারে ৬টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিটিসেল ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজস্ব শেয়ার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বাবদ সরকারের প্রাপ্য ২৬ কোটি টাকা পরিশোধ, তরঙ্গ বরাদ্দ ফিসহ অন্যান্য পাওয়া পরিশোধের জন্য ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে আরও ৬ মাসের সময় বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময় ১৯ জুন শেষ হয়ে গেলেও কোন প্রকার ফি পরিশোধ করেনি। বরং নির্ধারিত সময়ের ৭ দিন পর ২৬ জুন নতুন করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির ব্যাপারে আবেদন করে।

এ ব্যাপারে বিটিআরসির ১৭০তম কমিশন সভার বৈঠকে আলোচনা করা হলে সর্বসম্মতিক্রমে এ সময় আর নতুন করে বৃদ্ধি না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, সিটিসেলের কাছে টুজি রেনিউয়ালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তি বাবদ ২২৯ কোটি টাকা, স্পেকট্রাম ফি (অক্টোবর-দিসেম্বর/২০১৩, জানুয়ারি-মার্চ/২০১৪, এপ্রিল-জুন/২০১৪) বাবদ ৭ কোটি ৪০ লাখ ২৮ হাজার ৩০৯ টাকা, রেভিনিউ শেয়ারিং (জানুয়ারি-মারচ/২০১৪, এপ্রিল-জুন/২০১৪) বাবদ ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৫৪৪ টাকা, ও সামাজিক দায়বদ্ধ তহবিল (নভেম্বর/২০১১-মারচ-২০১৪) বাবদ ৪ কোটি ৯৩ লাখ ১৫ হাজার ৮৯১ টাকা অর্থাৎ সব মিলে ২৪৬ কোটি ৮২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৪ টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন