ভারতে ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি চুক্তির কার্যক্রম অগ্রগতি নেই

0

টেকজুম ডটটিভি// সেভেন সিস্টারস নামে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি করে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) বছরে ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি আয় হতে পারে। তবে শুরুতেই নয়, ব্যান্ডউইডথ রপ্তানির পরিমাণ ১০ গিগাবিট পার সেকেন্ড (জিবিপিএস) থেকে বেড়ে ৪০ জিবিপিএস হলে আয়ের এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

আশা করা হচ্ছে, আগামী চার মাসের মধ্যে ব্যান্ডউইডথ রপ্তানির কাজ শুরু হবে। প্রথমে ত্রিপুরা রাজ্যে পাঠানো হবে।

জানা গেছে, ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি শুরুর জন্য দুটি কাজ এখন সম্পন্ন হওয়ার পথে। গত ১২ মে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম কোম্পানি ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল) ও বিএসসিসিএলের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া দুই পক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার কাজ শেষ হয়।

এখন খসড়াটি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক মাসের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপের এই চুক্তি হতে যাচ্ছে তিন বছরের জন্য। দ্বিতীয় কাজটি হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউড়া হয়ে সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল লিঙ্ক স্থাপন।

এটি আগামী চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এ পথ ধরেই ব্যান্ডউইডথ পৌঁছবে আগরতলায়। এসএমডাব্লিউ-৪ সাবমেরিন কেব্লের কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে (চট্টগ্রাম-কুমিল্লা হয়ে) ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার লিঙ্ক আগে থেকেই রয়েছে। বাকি কাজের ভার দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কম্পানি লিমিটেডকে (বিটিসিএল)।

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিএসএনএলের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে আমরা দ্বিতীয় ধাপে আরেকটি পথেরও প্রস্তাব রেখেছি। সে পথটি কুমিল্লা থেকে সিলেট ও তামাবিল হয়ে ভারতের শিলং পর্যন্ত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ব্যান্ডউইডথ পাঠানো হবে। পরে মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও অরুণাচলে আমাদের ব্যান্ডউইডথ যাবে।’ তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথের চুক্তি হবে। এটির ৪০ জিবিপিএসে উন্নীত হতে সময় লাগবে না।

মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের সাবমেরিন ক্যাবল এসএমডাব্লিউ-৪ থেকে পাওয়া ব্যান্ডউইডথের পরিমাণ এখন ২০০ জিবিপিএস। গড়ে ৩৫ জিবিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকিটা অব্যবহৃত থাকছে। আমরা দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল এসএমডাব্লিউ-৫-এর সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছি। ৫৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ওই সাবমেরিন ক্যাবল থেকে পাওয়া যাবে আরো প্রায় এক হাজার ৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথড। এ ছাড়া আইটিসির (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল‌) মাধ্যমেও কলকাতা হয়ে বাংলাদেশে ব্যান্ডউইডথ আসছে। এ অবস্থায় ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি জরুরি এবং লাভজনক।’

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সেভেন সিস্টারসে মুম্বাই ও চেন্নাই থেকে ব্যান্ডউইডথ পৌঁছানো ব্যয়বহুল। ওই সব জায়গার সাবমেরিন কেব্লের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ওই সব রাজ্যের দূরত্ব প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার। এত দূর থেকে ব্যান্ডউইডথ নিতে গেলে গতি অনেক কমে যাবে। ট্রান্সমিশন ব্যয়ও অনেক বেশি হবে। আর বাংলাদেশ থেকে নিলে ৩০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি দূরত্ব থেকে নেওয়া যাবে। এ কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইডথ নিতে আগ্রহী।

২০০৫ সালে বাংলাদেশে এসএমডাব্লিউ-৪ সাবমেরিন কেব্লের সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ২০০৯ সালে বিএসসিসিএল তার ব্যান্ডউইডথের চাহিদা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধারণা করে যে এসএমডাব্লিউ-৪ সাবমেরিন কেব্‌ল্‌ থেকে ওই সময়ে প্রাপ্য ৪৪ দশমকি ৬ জিবিপিএসের পুরোটাই ২০১৪ সালের দিকে ব্যবহৃত হতে পারে। নতুন আইআইজি, আইজিডাব্লিউসহ ওয়াইম্যাক্স, থ্রিজি- এসব সেবার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আরো অনেক ব্যান্ডউইডথের চাহিদা সৃষ্টি হবে।

এ বিবেচনায় এসএমডাব্লিউ-৪ কনসোর্টিয়ামের আপগ্রেড-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএসসিসিএল দেশে ব্যান্ডউইডথ বাড়ানোর কার্যক্রমে অংশ নেয়। বিএসসিসিএল নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান এসএমডাব্লিউ-৪ ক্যাবল বিপুল পরিমাণ ব্যান্ডউইডথ সংযোজিত হয়। বর্তমানে ব্যান্ডউইডথের পরিমাণ প্রায় ২০০ গিগাবিট পার সেকেন্ড।

দ্বিতীয় একটি সাবমেরিন ক্যাবল লিংক স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় ছিল অনেক দিন থেকেই। এ লক্ষ্যে বিএসসিসিএল এসএমডাব্লিউ-৫ কনসোর্টিয়ামে যোগ দিয়ে গত ৭ মার্চ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে এবং দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।

এ প্রকল্পে মোট ৫৬০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিনিয়োগের একটি অংশ বিএসসিসিএলের আয় থেকে সংগৃহীত হচ্ছে। বাকি টাকা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। কেব্‌ল্‌টি ২০১৬ সালের মাঝামাঝি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর থেকে পাওয়া যাবে প্রায় এক হাজার ৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথড।

এটির ল্যান্ডিং স্টেশন পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটায় স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে কুয়াকাটায় ১০ একর জায়গা কেনা হয়েছে। সাইট ডেভেলপমেন্ট ও বাউন্ডারি ওয়ালের কাজও সম্পন্ন হওয়ার পথে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সেখানে ভবন তৈরির কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন