নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে, প্রত্যেকের হাতেই থাকবে ইন্টারনেট। সবাই যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ও নিরাপদ উপায়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার সম্পর্কে জানবেন। সেজন্য দরকার সচেতনতা আর ব্যবহারিক জ্ঞান। তাই-ই তো এই ‘ইন্টারনেট সপ্তাহ’ সবাই-ই তথ্যনির্ভর আধুনিক জীবনের স্বাদ পাবেন ইন্টারনেটের ছোয়ায়, এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।

ইন্টারনেট বিষয়ে সচেতনতা ও এর ব্যবহার বাড়াতে গোটা দেশজুড়ে চলছে ইন্টারনেট সপ্তাহ। ‘উন্নয়নের পাসওয়ার্ড আমাদের হাতে’। এই শ্লোগানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন এক কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্যেশ্য।

ইন্টারনেট সপ্তাহের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, ‘সরকার কখনোই ব্যবসা করে না, জনসাধারণের জন্য ব্যবসার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে দেয়। ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ মেলা ও দেশব্যাপী ইন্টারনেট সপ্তাহের মূল লক্ষ্য। ইন্টারনেট পৌছে যাবে দেশের কেন্দ্র থেকে প্রান্ত প্রর্যন্ত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটের ব্যবহারকে সমৃদ্ধ করতে চাই। আমরা চাই, দেশের সকল মানুষ সঠিক ও সহজভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করুক। ইন্টারনেট সপ্তাহ উপলক্ষে সকল উপজেলার মানুষ নিজ নিজ উৎসবকেন্দ্রে গিয়ে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন। ইন্টারনেটের ব্যবহার সম্পর্কে জানবেন।’

ঢাকাসহ সারাদেশের ৪৮৭টি উপজেলায় ৫ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলছে এ ইন্টারনেট সপ্তাহ-২০১৫। তবে, ঢাকায় বনানী সোসাইটি মাঠের মেলা শেষ হয় গত সোমবার। তুমুল উচ্ছাস আর জমজমাট এই ইন্টারনেট মেলায় অংশগ্রহণ করে দেশিয় ডটকম প্রতিষ্ঠানগুলো। উদ্দেশ্য ছিলো, মানুষের কাছে ডটকম প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচিত করা। পৃথিবীর ইতাহাসে ইন্টারনেট নিয়ে মেলা, এটাই প্রথম। অজস্র মানুষের ঢল ছিলো এই ইন্টারনেট মেলায়। এ উপলক্ষে বনানী (সোসাইটি) মাঠ সেজেছিল অন্যরকম অয়োজনে। নান্দনিক আলোকসজ্জা, অনলাইন স্টলের পসরা, গান, সুদৃশ্য মঞ্চ, সেমিনার আর অফুরন্ত ইন্টারনেটÑ এই নিয়েই ছিল মূল মেলা।

ইন্টারনেট সপ্তাহের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে বেসিস সভাপতি শামীম আহসান বলেন, ‘দুটি উদ্যেশ্য নিয়ে ইন্টারনেট সপ্তাহ উৎসবের আয়োজন। প্রথমত, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট পৌছে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে চাই। যারা আমাদের দেশীয় অর্থনীতি ও ই-কমার্স ব্যবসা খাতের পুরো দৃশ্যই পাল্টে দেবে।’

শুধু ঢাকা নয়, দেশজুড়ে এই আয়োজনে সব উপজেলাতেই রয়েছে ইন্টারনেট সম্পর্কে সচেতনতা ও এর ব্যবহার বৃদ্ধিতে নানা অনুষ্ঠান আর বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সানজিদা নাহার জানালেন, ‘ইন্টারনেট সপ্তাহ’। বিষয়টি একটু আলাদা। পুরো আয়োজনটা যথেষ্ট আনন্দপূর্ণ। নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের সঠিক ধারণা আর বিভিন্ন ডটকম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হতেই এ মেলায় আসা।

ইন্টারনেট সপ্তাহ সম্পর্কে ইন্টারনেট সপ্তাহের আহ্বায়ক ও বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, ‘ইন্টারনেট সপ্তাহের উদ্যেশ্য, নতুন এক কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সৃষ্টি করা। ইন্টারনেটের দাম কিন্তু কমছে, আরও কমবে। মেলা জমজমাট রাখতে ছিল নানা ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। ফলে মেলায় দর্শক বেড়েছে। ইন্টারনেটের প্রতি সাধারণ মানুষের অগ্রহ বেড়েছে, আরও বাড়ছে। শুধু ঢাকায় নয়, উপজেলাতেও। ইন্টারনেট সপ্তাহের মাধ্যমে একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল প্রর্যন্ত সহজেই ইন্টারনেটের ব্যবহার ও সচেতনতা ছড়িয়ে পড়বে।’

ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটে ইন্টারনেট সপ্তাহের বড় তিনটি এক্সপোসহ দেশব্যাপী এ ইন্টারনেট সপ্তাহের আয়োজক বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরেমশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং গ্রামীণফোন।

মেলার স্টল
ঢাকায় বনানী মাঠের মেলায় অংশ নেয় ব্যতিক্রম ও ভিন্নধর্মী ১০টি প্যাভিলিয়নসহ ৬২টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবা নিয়ে এখানে পসরা সাজায়। এতে ছিল মোবাইল অ্যাপ নির্মাতা, ওয়েব পোর্টাল, যন্ত্র নির্মাতা এবং অনলাইনভিত্তিক পণ্য ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। মেলার সকল প্রতিষ্ঠানই দর্শণার্থীদেরকে প্রচারপত্র, ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে তাদের অনলাইন পণ্য ও সেবার বিস্তারিত সম্পর্কে জানান।

ঢাকায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর একইভাবে রাজশাহীতে ইন্টারনেট উৎসব পালিত হয়। এছাড়া আগামী ১১ সেপ্টেম্বর আরও কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়ে সিলেটেও বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইকের বড় উৎসব পালিত হবে।

মেলায় স্টল নেওয়া অভো টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমরা আসলে প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার উদ্দেশ্যে মেলায় অংশগ্রহন করেছি। এখানে আমাদের সেবা ও কাজসমূহের বিস্তারিত জানানো হচ্ছে। দর্শনার্থীরা আসছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য নিচ্ছেন। কেউ কেউ আমাদের ওয়েবসাইটটাও দেখছেন। নানা রকম প্রশ্ন করছেন। প্রশ্নের ভেতর থেকেই আমরা তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে পারছি।’

মেলায় অংশগ্রহন করা কিছু প্রতিষ্ঠান
আজকের ডিল ডটকম, সিগমা সিস্টেম প্রাইভেট লিমিটেড, এখনই ডটকম, সফটওয়্যার শপ লিমিটেড, ডট নেট, ই-সফট বিলিং প্রাইভেট লিমিটেড, মেট্রোডেস্ক, জামান আইটি, আইসফট আইটি সল্যুউসন, টিম ক্রিয়েটিভ, প্রিয়শপ ডটকম, মাল্টিমিডিয়া সেন্টার অ্যান্ড কমিউনিকেশন লিমিটেড, আনন্দ কম্পিউটার্স, এসো ডটকম, অভো টেকনোলজি, সিসটেমস সল্যুউসন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেড, রাভেন সিস্টেমস লিমিটেড, সূর্যমুখী লিমিটেট, সুটিং স্টার লিমিটেড, প্রোপার্টি বাজার লিমিটেড, এডিএন টেলিকম, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানী লিমিটেড, ফরচুনা বাংলাদেশ, ওয়েব করি সিস্টেমস, আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড, ই-সফট, গ্লোবাল টেকনোলজি অ্যাডভান্সমেন্ট, সন্ধান ডটকম, শাদী বাজার ডটকম, দিয়া বাজার ডটকম, ঘুড়ি ডটকম ডটবিডিসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন