১০ বছরেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ টেলিকম নীতিমালা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি: দেশে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেবার উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে ১০ বছরের বেশি সময়েও এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি কমিশন। ফলে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না সংস্থাটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিচ্ছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (টিআরএআই)।

দেশে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেবার উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে ১০ বছরের বেশি সময়েও এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি কমিশন। ফলে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না সংস্থাটি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিচ্ছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (টিআরএআই)। এমনকি নীতিমালা অনুযায়ী অপারেটরদের দেয়া সেবার বিষয়ে কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) নিরীক্ষা চালু রয়েছে দেশটিতে। প্রতি প্রান্তিকে টেলিযোগাযোগ খাতে সেবাদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের সেবার মানের বিষয়ে পরিচালিত এ নিরীক্ষার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয় টিআরএআই।

বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য রেগুলেটরি ক্যাপাসিটি অব বিটিআরসি’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে সেলফোন অপারেটরদের জন্য সেবার মানদণ্ড নির্দিষ্ট করা হয়। ২০০৯ সালের জুনে চূড়ান্ত করা প্রতিবেদনে কল ড্রপ হার, এসএমএস সেবা প্রক্রিয়া সম্পন্নের হার, বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশনের (বিটিএস) কার্যক্রম বন্ধ থাকার হার ও ব্লক কলের হারসহ আরো বেশ কয়েকটি বিষয়ে এ মানদণ্ড নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। ড্রাইভ টেস্ট যন্ত্রপাতির সাহায্যে অপারেটরদের সেবার মান পর্যবেক্ষণ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সম্প্রতি এ প্রতিবেদন ও খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতের ভিত্তিতে কিউওএস-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী খসড়া নির্দেশনা তৈরি করা হয়। এ খসড়া অনুযায়ী, জারি হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুযায়ী অপারেটরদের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে অপারেটররা। কমিশন চাইলে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবে। সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বিটিআরসি। তবে একাধিকবার কমিশনের বৈঠকে তোলা হলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি এটি।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, কিউওএস নীতিমালা তৈরিতে সময় প্রয়োজন। এর সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। নীতিমালার পাশাপাশি সেবার মান বিষয়ক নিরীক্ষাও চালু করতে হবে। ভারতেও মাত্র দুই বছর আগে এটি চালু হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে থ্রিজি লাইসেন্স হস্তান্তরের সময় অপারেটরদের সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস। ওই সময়ই তিনি জানান, শিগগিরই অপারেটরদের এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কিউওএসের মানদণ্ড নির্ধারণ, অপারেটরদের তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরা ও সেবার মান নিশ্চিত করা বিটিআরসির দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজে পছন্দ অনুযায়ী অপারেটরের সেবা গ্রহণ করতে পারবে। পাশাপাশি এতে অপারেটরদের মধ্যেও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিলে গ্রাহক স্বার্থে দেশের সেলফোন অপারেটদের প্রতি নয়টি নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি। এছাড়া টেলিযোগাযোগ গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় এ নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন