সম্প্রতি বাজার থেকে একটি ডেস্কটপ পিসি বা ল্যাপটপ কিনে নিয়ে আসলেন অথবা অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে কিনলেন। পিসিকে যখন চালু করলেন, তখন দেখতে পেলেন স্ক্রিনজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম, যা আপনি ইনস্টল করেননি বা ইনস্টল করে দেয়ার জন্য অনুরোধও করেননি। এ ধরনের প্রোগ্রামকে বলা হয় ব্লটওয়্যার। ব্লটওয়্যার হলো সফটওয়্যার, যার রয়েছে আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় ফিচার, যা প্রচুর পরিমাণে র্যামম ও মেমরি ব্যবহার করে। এ ধরনের সফটওয়্যারকে ব্লটওয়্যার বলে, বিশেষ করে যখন এর ফাংশন ও ব্যবহারযোগ্যতা কমে যায়। এগুলোকে সফটওয়্যার ব্লটও বলা হয়।

ব্লটওয়্যার বিপুলসংখ্যক প্রোগ্রামারের কাছে একটি অশ্লীল শব্দ বা বাক্য হিসেবে পরিচিত, কেননা এগুলো নতুন পিসিতে প্রি-ইনস্টল করা অবস্থায় থাকে। এসব প্রোগ্রামের কোনো কোনোটি লিমিটেড ট্রায়াল ভার্সন হিসেবে ডিজাইন করা হয় নতুন ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য, যাতে তারা এগুলো কেনে বা ফুল ফিচার ভার্সনের জন্য সাবস্ক্রাইব হয়। মূলত ব্লটওয়্যার আপনার ডিভাইসে ইনস্টল করা হয় ম্যানুফ্যাকচারাদের লাভের জন্য, আপনার লাভের জন্য নয়। ব্লটওয়্যারকে কেউ কেউ ক্র্যাপওয়্যার (crapware) বলে, যা বিরক্তিকরের চেয়ে বেশি, কেননা এটি খুব সক্রিয়ভাবে কমপিউটারের প্রচুর রিসোর্স ব্যবহার করে এবং পিসিকে ধীরগতিসম্পন্ন করে তোলে। কেউ কেউ ব্লটওয়্যারকে এভাবে সঙ্ঘায়িত করেন, আপনার সিস্টেমে ওএসের আগে ও পরে ইনস্টল করা প্রোগ্রামগুলোকে বুঝায়, যা সিস্টেমকে ভারি করে তুলে এবং সিস্টেমের হার্ডডিস্ক স্পেস ব্যাপকভাবে দখল করে রাখে। ব্লটওয়্যার ট্রায়ালওয়্যার, ক্র্যাপওয়্যার, সোভলওয়্যার ও অ্যাডওয়্যার হিসেবেও পরিচিত।যেভাবে ম্যানুফ্যাকচারেরা পিসিকে ধীরগতিসম্পন্ন করেপিসি প্রস্ত্ততকারকেরা নতুন পিসিতে ইনস্টল করে ব্লটওয়্যার, কেননা এ কাজটি করার জন্য তাদেরকে অর্থ দেয়া হয়। কেননা পিসির থেকে মুনাফা হয় খুব কম। সুতরাং পিসিতে প্রচুর জাঙ্ক তথা অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করে দেয়ায় মাধ্যমে তারা কিছু আর্থিকভাবে লাভবান হয়। এর ফলে পিসি মোটামুটিভাবে কিছুটা দামে সস্তা হয়। অন্যথায় তা আরও ব্যয়বহুল হতো।

পিসিতে এসব অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল হওয়ার কারণে পিসির মূল্যবান স্টোরেজ স্পেস হওয়া নষ্ট করা ছাড়া ব্লটওয়্যার প্রায় সময় স্টার্টআপের সময় লোড হয় এবং পিসির বুটআপ প্রসেসকে দীর্ঘায়িত করে, মূল্যবান র্যাপম অপচয় করে এবং সাধারণত ক্ল্যাটারিং করে আপনার সিস্টেম ট্রে, ডেস্কটপ, ইনস্টল হওয়া অ্যাপ্লিকেশন ও কনটেক্সট মেনুকে।

ব্লটওয়্যারের এক দৃষ্টান্ত, যা প্রি-ইনস্টল অবস্থায় পিসিতে পাওয়া যায়

প্রি-ইনস্টল অবস্থায় অনেক ধরনের সফটওয়্যার পাওয়া যায়, যেগুলো খারাপই বলা যায়। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করে থাকে, যা সচরাচর ব্যবহারকারীদেরকে আতঙ্কিত করে সফটওয়্যারটি কিনতে বাধ্য করে এই বলে যে, আপনার পিসি ঝুঁকির মধ্যে আছে। আপনি যেসব গেম খেলতে চান না, সেগুলোর বিজ্ঞাপনপূর্ণ থাকবে, কোনো কোনো ট্রায়াল প্রোগ্রাম এক ঘণ্টা ফ্রি অফার করে নিষ্ক্রিয় হওয়ার আগে।
আপনার পিসিতে সম্পৃক্ত হওয়া প্রতিটি প্রোগ্রামই অপ্রয়োজনীয় তা নয়। সুতরাং ওইসব টুল রাখা ভালো যেগুলো আপনার হার্ডওয়্যারে সহায়ক হবে। যেমন : এনভিডিয়ার কন্ট্রোল প্যানেল ও জিফোর্স এক্সপেরিয়েন্স এনভিডিয়ার গ্রাফিক্স হার্ডওয়্যার সেটিং টোয়েকিংয়ের জন্য।

রিফ্রেশ ও রিসেট এখন আপোসপ্রবণ হয়ে পড়েছে

উইন্ডোজ ৮ যখন প্রথম অবমুক্ত হয়, তখন অনেকেই মনে করেছিল তারা নতুন পিসি থেকে ব্লটওয়্যারকে নিশ্চিহ্ন করতে পারবে বিল্টইন রিফ্রেশ বা রিসেট অপসারণের মাধ্যমে। এ টুলগুলো উইন্ডোজকে রিস্টোর করে আগের ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবে। এটি মূলত উইন্ডোজ রিইনস্টল করার সহজ উপায়।
উইন্ডোজ ৮-এর রিফ্রেশ অ্যান্ড রিসেট অপশন ব্লটওয়্যার নির্মূলের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, কেননা এগুলো প্রথম দর্শনেই দেখা যায়।

দুর্ভগ্যজনকভাবে উইন্ডোজ ৮-এর রিফ্রেশ অ্যান্ড রিসেট অপশন নতুন পিসির ব্লটওয়্যার নির্মূল তথা দূর করতে পারে না। সিস্টেম প্রস্ত্ততকারকেরা উপলব্ধি করেছে, তারা তৈরি করতে পারে ব্লটওয়্যারপূর্ণ কাস্টোম রিকোভারি ইমেজ। সুতরাং পিসি রিফ্রেশ করলে আগের সব জাঙ্ক ঠিকই রিস্টোর হবে। মাইক্রোসফট কমপিউটার প্রস্ত্ততকারকদেরকে এমন কার্যকলাপকে প্রতিহত করেনি, যাতে তারা তাদের রিকোভারি ইমেজে ব্লটওয়্যার যুক্ত করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়।

আপনি তৈরি করতে পারেন নিজস্ব কাস্টোম রিকোভারি ইমেজ। যখনই আপনি একটি নতুন পিসি কিনবেন, তখন প্রথমেই ব্লটওয়্যার অপসারণ করে নিন, তারপর তৈরি করুন কাস্টোম রিফ্রেশ ইমেজ। যখন পিসি রিফ্রেশ অথবা রিসেট করবেন, তখনই পিসি এগুলো রিস্টোর করবে ব্লটওয়্যারমুক্ত পরিষ্কার অবস্থায়।

বস্নটওয়্যার অপসারণে সহায়তা পাওয়া

বেশ কিছু সহায়ক ইউটিলিটি রয়েছে, যেগুলো ব্লটওয়্যারের সাথে লড়াই করে আসছে। এসব টুলের মধ্যে অন্যতম একটি হলো পিসি ডিক্র্যাপিফায়ার (PC Decrapifier), যা ডিজাইন করা হয়েছে ক্র্যাপওয়্যারকে যতটুকু সম্ভব খুব সহজে সমূলে উৎপাটন করার জন্য। এই প্রোগ্রামকে রান করালে এটি চেষ্টা করবে আপনার পিসিতে ইনস্টল হওয়া পরিচিত ব্লটওয়্যারকে খুঁজে বের করতে। এই পদ্ধতিটি কন্ট্রোল প্যানেলের মাধ্যমে ব্লটওয়্যার খুঁজে বের করার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং প্রোগ্রাম আনইনস্টল করতে হয় একটির পর একটি করে। সহজ ব্লটওয়্যারের রিমুভাল অপশন হলো ‘Should I remove It’ ইউটিলিটি। আপনার কমপিউটারে যেসব প্রোগ্রাম ইনস্টল করা আছে, সেগুলোকে প্রদর্শন করে আপনাকে অবহিত করবে এ প্রোগ্রামগুলো কী করে ও প্রদর্শন করে অন্য কোনো ব্যবহারকারী এটি রিমুভ করার জন্য বেছে নিয়েছে কি না। এই প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটও প্রস্ত্ততকারকের মাধ্যমে লিস্ট করে সাধারণ ব্লটওয়্যারেরা।

জাঙ্ক আনইনস্টল করা

অন্য যেকোনো সফটওয়্যারের মতো আপনি ব্লটওয়্যার রিমুভ করতে পারবেন। এজন্য কন্ট্রোল প্যানেল ওপেন করে ইনস্টল করা প্রোগ্রামের লিস্ট ভিউ ওপেন করুন এবং যেসব প্রোগ্রাম আপনি চান না সেগুলো আনইনস্টল করুন। পিসি নতুন কেনার পরপরই যদি এ কাজটি আপনি করেন, তাহলে আপনার কমপিউটারের প্রোগ্রামের লিস্টটি হবে এটি। আপনি সিস্টেম ট্রে-কেও চেক করে দেখতে পারেন ব্যাকগ্রাউন্ডে কী রান করছে তা দেখার জন্য। এর ফলে সহায়তা পাবেন সবচেয়ে বিরক্তিকর, খারাপ ও ক্ষতিকর প্রোগ্রাম খুঁজে পেতে। এবার আপনার অনাকাঙিক্ষত প্রোগ্রামগুলো আনইনস্টল করুন, যাতে পরবর্তী বুটআপের সময় এগুলো ফিরে না আসে।

অ্যাড/রিমুভ প্রোগ্রাম টুল

যখনই সন্দেহ হবে, তখন প্রোগ্রামের জন্য গুগল সার্চ করুন। এর ফলে আপনি পেতে পারেন আপনার নির্দিষ্ট পিসি বা ল্যাপটপের সুনিদিষ্ট মডেল অনুযায়ী ব্লটওয়্যার রিমুভাল গাইড। এ ক্ষেত্রে কোন প্রোগ্রাম প্রয়োজনীয় ও কোন প্রোগ্রাম অপ্রয়োজনীয়, তা অভিজ্ঞ ব্যবহারকারী জানেন বা বুঝতে পারেন। তবে অনভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের এ কাজ করার জন্য অভিজ্ঞ কারও সহযোগিতা নেয়া উচিত।

পরিষ্কার সিস্টেমের জন্য উইন্ডোজ রিইনস্টল করা

এ ক্ষেত্রে আপনি আরও কঠোর ক্ষেপ নিতে পারেন। অনেকেই পরামর্শ দেন তাদের নতুন পিসিতে পরিষ্কার ইনস্টলেশন পারফর্ম করার জন্য, বস্নটওয়্যার পরিষ্কার করার জন্য চেষ্টা করার পরিবর্তে। কেননা তারা মনে করেন সবকিছু নিশ্চিহ্ন করার চেয়ে এ কাজটি আরও অনেক বেশি সহজ এবং এর ফলে সবকিছু একেবারেই নতুন করে শুরু হয়। এ কাজটি অনেক ভালো ফলদায়ক, তবে কিছু বেশি সময়সাপেক্ষ এবং বিরক্তিকরও বটে।

এজন্য দরকার একটি ফ্রেশ উইন্ডোজ ডিস্ক (যদি পিসিতে ডিভিডি ড্রাইভ না থাকে, তাহলে উইন্ডোজ ইনস্টলেশন মিডিয়া রাখতে পারেন ইউএসবি ড্রাইভে)। কমপিউটারে ইনস্টলেশন মিডিয়া ঢুকিয়ে রিবুট করুন। উইন্ডোজকে স্বাভাবিকভাবে ইনস্টল করুন। এর ফলে পাবেন একটি পরিষ্কার উইন্ডোজ সিস্টেম কোনো ধরনের ম্যানুফ্যাকচারার স্পেসিফিক ক্ল্যাটার ছাড়া, যেমনটি মাইক্রোসফট অনুমোদন করে।

এবার নতুন পিসির অপারেটিং সিস্টেম বার্ন করুন এবং ব্যাকআপ তৈরি করুন ফ্রেশ উইন্ডোজ ইনস্টলসহ। পিসি প্রস্ত্ততকারকেরা সাধারণত পিসির সাথে উইন্ডোজ ইনস্টলের মিডিয়া সরবরাহ করে না। যখনই আপনি এ কাজটি করবেন, তখনই একই ধরনের ব্লটওয়্যারমুক্ত থাকবেন আপনি। সুতরাং আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে ফ্রেশ মিডিয়া।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন