পরিবারের সব সদস্যরা মিলে একসঙ্গে রাতের খাবার খেলে সাইবার উত্পীড়ন থেকে শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। রাতের খাবার একসঙ্গে খেলে শিশুর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন এবং সাইবার জগতের নানা ঝুঁকি সম্পর্কে শিশুর মধ্যে ধারণা গড়ে উঠতে পারে। এক খবরে আইএএনএস এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন গবেষকেরা বলছেন, তরুণদের সচেতন করতে মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারে তেমনি রাতের খাবারের সময় সাইবার বা ইন্টারনেট জগতের বিভিন্ন ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের জানানো যেতে পারে।

ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের সাইবার নিপীড়ন হতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কারও সম্পর্কে ইন্টারনেটে গুজব ছড়ানো। কাউকে হেনস্তা করতে বা হুমকি দিতে অনলাইনে লেখা বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও সাইবার উত্পীড়নের মধ্যে পড়ে। গবেষকেরা বলছেন, সাইবার নিপীড়নের ফলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যর ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। মানসিক সমস্যা দূর করতে রাতের খাবারের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।

গবেষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি স্কুলের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১৮ হাজার ৮৩৪ জন শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায় গত এক বছরে ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে সাইবার নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

গবেষকেরা দাবি করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ও সাইবার নিপীড়নের বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানোর মাধ্যমে হালকা হওয়া যায়। রাতের খাবারের সময় এটি জানানো যায়। গবেষণা সংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে জেএএমএ পেডিয়াট্রিকস সাময়িকীতে।

গবেষণা প্রসঙ্গে কানাডার মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফ্রাংক ইগার জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও খোলামেলা আলোচনা শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সাইবার নিপীড়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুকে রক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হচ্ছে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন