খামার, পোলট্রি বা কসাইখানা মানেই গরু, ছাগল আর মুরগি৷ তারা কাজে লাগে বটে, কিন্তু দুর্গন্ধও কম হয় না৷ অথচ তাদের বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করাও কিন্তু সম্ভব!

ইলিয়া মেইলাখ রাশিয়ার ‘লুচকি’ বায়োগ্যাস কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী৷ দিনের মধ্যে কয়েকবার সিঁড়ি বেয়ে এখানে উঠতে হয় তাঁকে৷ এই বড় বড় সিলিন্ডারগুলিতে সবকিছু গাজিয়ে তোলা হচ্ছে কিনা, সেটা তাকে দেখতে হয়৷ কেন না, একমাত্র তারপরেই তৈরি হবে বায়ো-গ্যাস৷ আর শুধুমাত্র তবেই এই ‘লুচকি’ কেন্দ্রে সম্ভব হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন৷ গত বছরই এই প্রক্রিয়ায় বায়ো-গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে এখানে৷ যার জন্য প্রযুক্তি এসেছে জার্মানি থেকে৷ প্রথমে কিন্তু এই প্রকল্পটি নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল৷ মেইলাখ বলেন, ‘‘প্রশ্ন উঠেছিল, রাশিয়াতে এমন একটি প্রযুক্তির ব্যবহার আদৌ সম্ভব কিনা৷ জার্মানির জলবায়ু এখানকার জলবায়ু থেকে ভিন্ন৷ তবে না৷ এই বায়ো-গ্যাস প্রকল্প আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, এটা এখানেও সম্ভব৷ তাই এবার আমাদের এমন আরো কয়েকটি প্রকল্পে হাত দেয়া উচিত৷”

এই প্রক্রিয়ায় বায়ো-গ্যাস তৈরি করতে জৈব-উপকরণ আসে কৃষি খামারগুলো থেকে৷ বছরে প্রায় ৭০ হাজার টন মাল-মশলার প্রয়োজন হয়৷ যার বেশিরভাগটাই আশেপাশের অঞ্চল থেকে আসা পশু জবাই করার পর ফেলে দেয়া আবর্জনা ও তরল সার৷

এর সঙ্গে দেয়া হয় কিছুটা ভুট্টার খোসা, যাতে ব্যাকটেরিয়া এই মিশ্রণ ভালো করে ‘হজম’ করতে পারে এবং মিথেন গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে৷ ঐ মিথেন গ্যাস থেকেই বিদ্যুৎ তৈরি হয়৷ আশেপাশের এলাকার প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা ‘লুচকি’-র বায়ো-গ্যাস প্রকল্পটিতে কাঁচামাল সরবরাহ করে থাকে৷ এতে একই সঙ্গে এ অঞ্চলের শুকরের খামারগুলির আবর্জনারও একটা হিল্লে হয়ে যায়৷

এখানকার খামারে প্রায় ১০ হাজার শুকরের প্রজনন করা হয়৷ যা থেকে বেশ ভালো পরিমাণ তরল, জৈব সার তৈরি হয়৷ এমনই এক খামারের মালিক আনাতোলি নেক্রাসভ৷ তিনি বললেন, ‘‘এই বায়ো-গ্যাস প্রকল্পটি যদি নাও থাকতো, তাহলেও আমাদের তেমন সমস্যা হতো না৷ আমাদের এখানে প্রায় ১৪ হাজার কিউবিক মিটার জৈব বর্জ্য ও সার জমা করে রাখার দুটি আধার রয়েছে৷ বসন্ত ও হেমন্তকালে সেখান থেকে জৈব সার আশেপাশের জমিগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়৷ আমাদের হাতে সবসময় কিছু সার থাকে৷”

দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে আরও বেশি বায়োগ্যাস প্রকল্প তরল সারের সমস্যার সমাধান করতে পারে৷ ‘লুচকি’-র এই বায়ো-গ্যাস প্রকল্পটি তৈরি করতে প্রায় ৫০ কোটি রুবেল খরচ হয়েছে, যা কিনা প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ইউরোর সমান৷

রাশিয়ার প্রচণ্ড শীতেও জার্মান এই প্রযুক্তি কাজ করে থাকে বলে ইলিয়া মেইলাখ খুব খুশি৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রথমদিকে অনেকে ভেবেছিল যে, এ ধরণের বায়ো-গ্যাস প্রকল্পের ফলে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়াবে৷ কিন্তু যেদিন থেকে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে, সবাই বুঝতে পেরেছে যে এ ধরণের প্রকল্প আমাদের আরো বেশি সংখ্যায় প্রয়োজন৷ আর এখন তো প্রত্যেকটি শুকর খামারই চাইছে এমন একটা বায়ো-গ্যাস প্রকল্প তৈরি করতে৷ এর ফলে আখেরে দুর্গন্ধ কমছে বৈকি, মোটেই বাড়ছে না৷”

বলা বাহুল্য, লুচকি’র এই প্রকল্প একটা দিকনির্দেশনা দিয়েছে৷ তাই ইলিয়া মেইলাখ’এর আশা, শীঘ্রই রাশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের বায়ো-গ্যাস প্রকল্প শুরু করা যেতে পারে৷

বিশেষ করে কৃষি খামারের উপকার হবে৷ মালিকরা স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ পাবেন. আবর্জনা বিনাশের খরচও কমবে৷

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন