'ই-কমার্সে বিক্রেতা বাড়ছে, সেবা প্রদানকারী কোম্পানি বাড়ছে না'

সোহেল মৃধা// ই-কমার্স বাংলাদেশের পেক্ষাপটে এক উদীয়মান বিজনেস সেক্টর যার হয়তো গোল্ডেন সময় এখনই, ই-কমার্স বাংলাদেশের অবস্থানে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর অবদান হবে বিশাল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ভার্চুয়াল মার্কেট থেকে ই-কমার্স হছে ব্যবসা বাণিজ্য, কেনাকাটার, সার্ভিস পাওয়া, দেওয়ার এক যুগোপযোগী ক্ষেত্র। একই সাথে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান ও অর্থ উপার্জনের এক যুগোপযোগী ক্ষেত্রও হবে এই ই-কমার্স।

যেকোন ব্যবসার একটা ধরণ থাকে, যেমন কেউ পণ্য বিক্রি করে, কেউ বা অন্য কিছু, ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রটা অনেক বড় আমাদের দেশের গার্মেন্টস সেক্টর এর মত, বাহ্যিক দৃষ্টিতে পণ্য বা সেবা কেনা-বেচাই মূল কথা হলেও এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও আনুষাঙ্গিক ব্যাকএন্ড কাজও প্রচুর। যেমন- ইন্টারনেট, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, কম্পিউটার রিলেটেড পণ্য, ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন ও হোস্টিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস প্ল্যানিং, এসইও, পণ্যের ফটোগ্রাফি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, পণ্যের ডেসক্রিপশন বা কন্টেন্ট রাইটিং, ফেইসবুক মার্কেটিং, ই-মেইল মার্কেটিং, পণ্যের সাপ্লাই, অফিস ম্যানেজমেন্ট, অফিস ম্যাটারিয়ালস, প্যাকেজিং, কাস্টমার কেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন/ভেহিকাল, ডেলিভারি/কুরিয়ার সিস্টেম, পেমেন্ট গেটওয়ে, মোবাইল অ্যাপ, লিগ্যাল সাপোর্ট, ই-কমার্স লার্নিং এর নানা বিষয়ের যেমন, ওয়ার্কশপ, থিসিস, ইত্যাদি। এইসব ক্ষেত্র ও বেশী গুলোই কিন্তু ই-কমার্স ব্যবসার সাথে জড়িত আছে আমার মনে হয় এর কোনটাই বাদ দিয়ে কিন্তু ব্যবসা সম্ভব না আর করাও যাবে না, অসম্ভব একটা বিষয়। এসবের বাইরেও আরও অনেক বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে আমার মনে হয় এর কোনটাই বাদ দিয়ে কিন্তু ব্যবসা সম্ভব না।

আমাদেরকে ই-কমার্স ব্যবসার ব্যাকএন্ডের প্রতিটি বিষয় আলাদা আলাদা আইডেন্টিফাই করে তার উপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে, যদি আমরা ই-কমার্স ব্যবসার বিশালতার মধ্যে তার নানা ক্ষেত্রটাকে আলাদা না করতে পারি তাহলে হয়তো টোটাল সেক্টরটার গতি কিছু সময়ের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াবে তা না হলে এগিয়ে যাওয়ার গতি স্লো হয়ে যাবে। যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে এইসব বিষয় গুলো নিয়ে ভেবে নিজেদের প্ল্যান, প্রোগ্রাম ঠিক করে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, যখনি এইসব সমান তালে এগিয়ে যাবে তখন এমনিতে ই-কমার্স এগিয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ই-কমার্স সেক্টরে যে সকল নতুন উদ্যোক্তারা আসবেন তাঁরা শুধুই পণ্য বিক্রি করার মানুষিকতা না নিয়ে, ব্যাকএন্ডের এই সকল সেক্টর গুলো নিয়েও বিজনেসে আসার চিন্তা করতে পারেন। কারণ ই-কমার্সে বিক্রেতার সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে সেভাবে সেবা প্রদানকারী কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছে না, আর বাড়লেও দক্ষ সেবা প্রদানকারীর সংখ্যা খুবই কম।

নতুন উদ্যোক্তাদের বেশী বেশী করে এগিয়ে আসতে হবে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ এর বিষয় গুলোর নিয়ে যা তাদেরকে নিজ নিজ ব্যবসার ক্ষেত্রে নিজেদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং আইডিয়াগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে আমি আশা করি।

ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ এর প্রতিটি বিষয়েই আলাদা আলাদা ভাবে আলোচনার জন্য যথেষ্ট আর প্রতিটি বিষয়েই এক একটা ব্যবসায় ক্ষেত্র আর এই বিষয়গুলো নিয়ে যত বেশী বেশী কথা, আলোচনা হবে তত সবাই এর গুরুত্ব বুঝতে পারবেন আশা করি।