ইন্টারনেট বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি লাগবে

নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// এখন থেকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্লক বা বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে। গত ১৫ ডিসেম্বর সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দেশে প্রথমবারের মতো গত ১৮ নভেম্বর ইন্টারনেট বন্ধ (ব্লক) করা হয়। ওইদিন প্রায় এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশের ব্যবসায় ও যোগাযোগে বিশাল ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টা অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখন থেকে ইন্টারনেট ব্লক বা বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১৮ নভেম্বর সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইন্টারনেটনির্ভর যোগাযোগ মাধ্যম মেসেঞ্জার, ভাইবার, লাইনসহ কয়েকটি মাধ্যম বন্ধের নির্দেশ দেয় কিন্তু এদিন ইন্টারনেট সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সারাদেশ বেশ কিছুক্ষণের জন্য ইন্টারনেটবিহীন হয়ে পড়ে। সূত্র জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় কেউই অবগত ছিলেন না।

গত ১৫ ডিসেম্বরের বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ইন্টারনেট ব্লক সম্পর্কে বলেন, এর ফলে অতিরিক্ত ক্ষতি হয়েছে। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ বা ব্লক করার কোনও সলিউশন নেই। যারা খারাপ তারা ব্যবহার বন্ধ রাখছে না। ভবিষ্যতে এক্সট্রিম কন্ডিশনে ইন্টারনেট ব্লক করতে হলে পিএমও –এর অনুমতি লাগবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করব না। তবে এ-ও ঠিক, ইন্টারনেট পুরোপুরিভাবে বন্ধ না করে কোনও ধরনের লিকেজ বন্ধ করা যায় না, চীনও পারেনি। যদিও আমাদের কয়েকজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ওই সময়ে (১৮ নভেম্বরের পরে) বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, প্রযুক্তি দিয়ে প্রযুক্তিকে মোকাবেলা করতে হবে। ইন্টারনেট বন্ধ না করেও উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা যেত। আমি তাদের ডেকে জানতে চেয়েছিলাম, আমাকে আপনারা বলেন, কীভাবে প্রযুক্তি দিয়ে প্রযুক্তি মোকাবেলা করব। আপনারা যে সমাধান দেবেন সেভাবেই কাজ হবে। কিন্তু তারা আমাদের বলেছেন, ইন্টারনেট পুরোপুরিভাবে শাটডাউন না করে কোনও লিকেজ (বিকল্প পথে ফেসবুকে ঢোকার উপায়) বন্ধ করা সম্ভব নয়। ফলে আমরা ঠিক করেছি ইন্টারনেট বন্ধ করব না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি শামীম আহসান জানিয়েছেন, ১৮ নভেম্বর দেশে প্রায় এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ইন্টারনেট সরবরাহও বন্ধ ছিল। যা তথ্যপ্রযুক্তি খাত তথা দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে নিরাপত্তা রক্ষার মতো ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-এর অনুমতি ছাড়া দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া মোটেই সমীচীন নয়।

তিনি বলেন, ‘ফেসবুকসহ অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে ১৩ ডিসেম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয় টুইটার, ইমো এবং স্কাইপে। এদিন আমি সজীব ওয়াজেদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলি। তিনি এগুলো সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে ফোন করে সব খুলে দেওয়ার জন্য বলেন। ফলে বন্ধ করে দেওয়া সব সেবা চালু করা হয়।’

শামীম আহসান আরও বলেন, আইসিটি খাত থেকে আমাদের প্রত্যাশা ও দাবি হলো আগামীতে যাতে নিরাপত্তা অজুহাতে এসব সেবা বন্ধ না করে আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিকল্প নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।