তাহলে টেলিটক কেন পেরে উঠছে না?

মো: শফিউল আলম// অসংখ্য ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী Tarana Halim । দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এম.এন.পি (মোবাইল নাম্বার পোর্টাবিলিটি) তথাপি মোবাইল নাম্বার ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এবং এই বছরের মাঝেই সেবাটির সুফল গ্রাহক পর্যায়ে ভোগ করতে পাবে ।

নিঃসন্দেহে এটি এক যুগান্তকারী উদ্যোগ, প্রচণ্ড দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত এতো বড় বড় প্রতিষ্টানগুলির স্বার্থ ভেঙ্গে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় চূড়ান্ত অগ্রগতি সাধিত হতে যাচ্ছে । ইহার বাস্থবায়নে টেলিকম অপারেটর গুলির মনোপলি এবং প্যাকেজ বৈষম্য ভেঙ্গে পড়বে । উল্লেখ্য , সেবাটি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলিতে বছর পাঁচেক আগেই শুরু করতে পেরেছিল । এম.এন.পি বাস্থবায়নের দাবী নিয়ে আজ অনেক বছর ধরে আমরা আলোচনা করছি কিন্তু এটার গুরত্ব এবং সুফলতা ভোক্তা পর্যায়ে বুঝতে সক্ষম না হওয়ায় এবং আইনি জটিলতায় এটি বাস্থবায়নে বিলম্ভ হচ্ছিল। পোস্ট টেলিকম ডিভিশনের অভিষেকের প্রথম পদক্ষেপ ছিল এমএনপি র মত মত জন-গুরুত্বপুর্ন সেবাটির বাস্থবায়ন নিশ্চিত করা, আশা করি আজ মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার মাধ্যমে অনতিবিল্ভম্বে এম এন পির বাস্থবায়ন সময়মত কার্যকর হবে।

আরেকটি জনগুরত্বপুর্ন বিষয়, যেখানে সারা পৃথিবীতে সব দেশেই সরকারী মালিকানা টেলিকমের মার্কেট শেয়ার থাকে ৫০% ভাগেরও বেশী আর বাকি সব অপারেটররা মিলে অর্ধেকেরও অনেক কম সেখানে অত্যান্ত দুঃখজনক ভাবে আমাদের টেলিটকের শেয়ার মাত্র ৪% অথচ বিলিয়ন ডলার রেভিনিউ আর্নার লিডিং অপারেটরগুলি আমাদের দেশী কর্মকর্তারাই গড়ে তুলেছেন এবং পরিচালনা করছেন। তাহলে টেলিটক কেন পেরে উঠছে না? আমরা কি টেলিটককে সেবা নির্ভর প্রতিস্টানে রূপান্তর করতে পারব না? আমরা ইতিমধ্যে টেলিটকের অনেক উদ্যোগ এবং বেশ কিছু সফলতাও লক্ষ্য করেছি কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কি অপ্রতুল নয়? আমাদের টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির রেভেনিউ যদি আনুমানিক ৩০,০০০ কোটি হয় তাহলে আমাদের ভাগে মাত্র ১২০০ কোটি টাকা, অথচ আমাদের এখানে বছরে প্রায় ২০,০০০ কোটি দেশে রেখে দিতে পারতাম ।

থ্রিজি সেবায় টেলিটককে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরেও এক্সপনেশিয়াল অগ্রগতি দেখাতে ব্যার্থ হয়েছে । এমএনপির সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারলে আর কোনদিন এই প্রতিষ্ঠানটি দাঁড়াতে পারবে বলে আমার মনে হয় না । এমএনপি বাস্থবায়নের পুর্বেই টেলিটকের সকল প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক বলে মনে করি, এর পরিচালনা, অবকাঠামো, সেবা, প্রতিযোগিতা মূলক ভয়েস ট্যারিফ এবং সুলভ ডেটা প্যাকেজের উন্নয়ন সহ ব্যাপক পরিকল্পনা এখনই নিতে হবে । বিশেষভাবে গুরত্ব দেয়া দরকার দক্ষ মানব সম্পদের উপর প্রয়োজনে হ্যাড হান্টিং করে ভালো প্রস্তাব আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মেধার সম্মিলন করা । আমাদের দেশের অভিজ্ঞ এবং তরুণরাই টেলিটককে সেবা নির্ভর লাভজনক সর্বসেরা প্রতিস্টান হিসাবে গড়ে তুলতে সক্ষম।

আমাদের মত আবেগী দেশপ্রেমিক একটি দেশে টেলিটকের মত জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে ২০১৭ সালের অগ্রাধিকার হিসাবে শ্রেষ্ঠ টেলিকম হিসাবে রূপান্তরে ব্যাপক পরিকল্পনা এবং প্রকৃত বাস্থাবায়ন করতে পোস্ট এবং টেলিকম ডিভিশনের সফল একজন মন্ত্রীর কাছে এই প্রত্যাশাই রইল ।

মো: শফিউল আলম, উদ্যোক্তা-বিল্যান্সার