পেপাল জুম- এর কনফিউশন

0

পেপাল জুম- এর কনফিউশন নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না, তবে পেপাল আসলে কিভাবে কাজ করে সেটা একটু বলতে চাই। পেপাল আমরা অনেকেই হয়তো ব্যবহার করে থাকি কিন্তু সেক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশের কোন ব্যাংক অথবা ক্রেডিট কার্ড পেপালে অ্যাড করতে পারি না, কারণ তার কোন অনুমতি নেই। কেন অনুমতি নেই আর কেনই বা এত দ্বন্দ্ব পেপাল আসা নিয়ে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দেশের টাকা ব্যাংকের এন্ড্রসমেন্ট ছাড়া বাইরে পাঠানো নিষেধ। যদি আমরা লিগ্যাল ভাবে দেশের টাকা বাইরে পাঠাতে চাই সেটা লোকাল ব্যাংক থেকে এন্ড্রসমেন্ট করাতে হয় এবং সেটাও একটা নির্দিষ্ট পরিমান পর্যন্ত। আমাদের যত ইচ্ছা তত টাকা বাইরে পাঠাতে পারবোনা। দেশের বাইরে থেকে ক্লায়েন্টরা আমাদের যত খুশী পেমেন্ট পাঠাতে পারেন, কারণ তাদের দেশে টাকা বাইরে পাঠানো নিষেধ নয়, এবং আমাদের দেশে বাইরে থেকে টাকা রিসিভ করাও নিষেধ নয়। পেওনিয়ার ব্যবহার করেও দেশের কোন টাকা ব্যাংক থেকে কার্ডে লোড দেয়া যায়না। তার কারণও একই।

পেপাল দেশে আসলে লাভ ও ক্ষতি
পেপাল বাংলাদেশে লিগ্যালি আসার মানে হল আমরা আমাদের ব্যাংক আকাউন্ট এবং ক্রেডিট কার্ড পেপালে অ্যাড করতে পারবো এবং সেখান থেকে যত খুশী টাকা লেনদেন করতে পারবো। এখন লেনদেন করতে পারার মানে হচ্ছে টাকা যেমন রিসিভ করতে পারবো তেমন দেশের বাইরে পাঠাতেও পারবো। যা সম্পূর্ণ অবৈধ যেমনটা আমি আগে বর্ণনা করলাম। এখন পেপাল আসার ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশে যে আইন আছে লোকাল মানি বাইরে পাঠানোর ব্যাপারে সেটা বদলাতে হবে। যেটা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এছাড়াও শুধু ফ্রিলেন্সার ছাড়া আমরা যদি সর্বসাকুল্যে দেশের কথা চিন্তা করি, আমাদের দেশ এখনো একটি উন্নয়নশীল দেশ। কিছু অসাধু মানুষ পেপাল ব্যবহার করে দেশের টাকা বাইরে পাঠাতে পারে। ব্ল্যাক মানি হোয়াইট করতে পেপাল ব্যবহার হতে পারে। এতে করে কিছু মানুষের সুবিধা হলেও দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় হতে পারে।

আমি সুধু মাত্র কি কি ধরেনের সমস্যা হয়ে পারে সেটা বর্ণনা করলাম, তবে সবদিক বিবেচনায় রেখে পেপাল রিলেটেড কর্তৃপক্ষ অবশ্যই পেপাল ব্যবহারের সুব্যবস্তা করতে পারবেন বলে আশা রাখি।

আফরিন ফিরোজ ,বিজনেস এনালিস্ট, বিপকো ইউএসএ

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন