জবরদস্তি ডিজিটাল: মোস্তফা জব্বার

0

কয়েক সপ্তাহ আগে আমার মা-বাবার নামে তৈরি করা আব্দুল জব্বার রাবেয়া খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুবী আক্তার ফোন করে জানালো, স্কুলের জন্য একটি ওয়েবসাইট বানাতে হবে। সরকারের নির্দেশ।

এরপর গ্রামের কলেজ, বিরাট স্কুলসহ অনেকেই অনুরোধ করলো।

খোজ নিয়ে জানলাম, শিক্ষা সচিব মহোদয় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমন নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ দেবার আগে তার ভাবা উচিত ছিলোনা যে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই খরচ বহন করতে পারবে কিনা? যারা এসব ওয়েসোইট বানাবে তাদের যোগ্যতা কি? এগুলো আপডেট করার জনবল সবার আছে কিনা? এসবের নিরাপত্তার অবস্থা কি হবে?

সবার ইন্টারনেট আছে কিনা? সবার বিদ্যুৎ আছে কিনা? এর চাইতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ওয়েবসাইটের নমুনা তৈরি করে সবাইকে ফ্রি দিতে পারতো। এরপর শুনেছি শিক্ষা মন্ত্রণালয় তালিকা করে দেবে কারা এই ওয়েবসাইটগুলো বানিয়ে দেবে।

আমার মনে হলো, সেটি কি কারও বিশেষ বাণিজ্য? আইসিটি ডিভিশনে থাকাকালে বর্তমান শিক্ষা সচিব অনেকের জন্যই এমন বাণিজ্য করে দিয়ে এসেছেন। লার্নিং আর্নিং, সাইবার ক্রাইম বিষয়ক সচেতনতা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি সেইসব বাণিজ্য।

জবরদস্তি ডিজিটাল বানাতে গিয়ে কেমন জটিলতা তৈরি করা হয় তার আরও একটি নমুনা দেখা গেলো কলেজে ভর্তি বিভ্রাট নিয়ে। দেশে যদি বারবার মুহম্মদ বিন তুগলকের জন্ম হয় তবে বিপদতো বাড়েই।

জবরদস্তিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। অনুগ্রহ করে পুরো দেশটাকে কেউ গিনিপিগ বানাবেন না। ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিক্ষা-নিরিক্ষার বিষয় নয়।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন