'কল ড্রপ' ফেরতের নামে মোবাইল কোম্পানীগুলোর নির্লজ্জ প্রচারণা

0

মোঃ শফিউল আলম// গত কয়েক বছর ধরেই টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে যে কত বড় ধ্বস নেমেছে তার জন্য সাধারণ গ্রাহকের মাঝে সার্ভে করার প্রয়োজন নেই, উৎকৃষ্ট প্রমান “কল ড্রপ” ফেরতের নামে মোবাইল কোম্পানীগুলোর নির্লজ্জ প্রচারণা।

ভার্টিকেল গ্রোথের সাথে যে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা কেন ক্যাপাসিটি বাড়ায়নি তার জন্য গণিতজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না, ১০ কোটি গ্রাহকের এই দৈনন্দিন ভোগান্তি মেইনস্ট্রিম মিডিয়া কেন কভার করে না, তাও আমাদের জানা আছে ।

আমার কলাবাগানের বাসায় গত দুই বছর ধরে গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্ক কাজ করে না, বারান্দায় এসেও কথা বলতে পারি না, কোন অভিযোগেই কাজ হয় না, এক বছরের মাঝে ঠিক হয়ে যাবে বলেও আর হয় না, কতবার যে এমন হয়েছে একদিনের এসএমএস আরেকদিন এসেছে।

আমাদের সবকিছুতেই মুখ বুঝে সয়ে থাকার যে এক অথর্ব সমাজ ব্যব্স্থা এবং সংস্কৃতি গড়ে তুলেছি তার পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হবে তা যে কবে বুঝবো?

একটু গুগল করলেই পাওয়া যায় সারাবিশ্বে সরকারি মালিকানা টেলিকমের মার্কেট শেয়ার থাকে ৬০-৭০% ভাগের উপড়ে, আর সব প্রাইভেট মিলে থাকে বাকি অংশ। অথচ বাংলাদেশে এটা ২% শতাংশেরও কম।

আমাদের দেশের মেধাবী যুবকরাই ৫ কোটি, ৩ কোটি গ্রাহকের মোবাইল কোম্পানি বানাতে পারলে টেলিটক কেন পারবে না? এতো লাভজনক একটি খাতকে এখনো সম্ভব রিফর্ম করা, যদি এমএনপি (মোবাইল নাম্বার পর্টাবিলিট – যে পলিসি এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল নাম্বার ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্বত করা যায়) চালু করা হয়, ২০১২ সাল থেকে হবে হবে বলে এমএনপি কেন চালু হচ্ছে না ?

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ পৃথিবীর প্রায় সবগুলি দেশেই এটি চালু আছে।

এমএনপি চালু করে, টেলিটকের সেবা এবং নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করলে আমি নিশ্চিত টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৫-৬ কোটিতে পৌঁছানো সম্ভব এবং বাংলাদেশেই প্রতিমাসে হাজার হাজার কোটি আয় করা সম্ভব যা দিয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলি যেমন শিক্ষায় ভ্যাট প্রত্যাহার করা, ইন্টারনেটে ব্যান্ডউইথে সাবসিডী দেয়া, সেতু নির্মাণ করা, যানজট কমানোয় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা করা যেতো।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন