নিজের মস্তিষ্ক সংরক্ষণ করতে চান ম্যাকলেনান

মৃত্যু হলেও বিদায় নেবেন না সুন্দর এই পৃথিবী থেকে। বাঁচতে চান আরও অনেক হাজার বছর। হয়তো, হয়তো বা কোনও এক দিন বেঁচে উঠবেন আবার।

এমনই ইচ্ছা হয়েছিল স্কটিশ এক লেখকের। স্কটল্যান্ডের আইল অব স্কাইয়ের বাসিন্দা ডিজে ম্যাকলেনান। লেখালেখি করেন। গত বছরের নভেম্বরে ক্রায়োনিকস্ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হয়েছিল লন্ডনের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর দেহ। মারণরোগ বাসা বেঁধেছিল তাঁর শরীরে। হাজার চেষ্টাতেও বাঁচানো যায়নি তাকে। কিন্তু আদালতের রায়ে বেঁচেছিল তার শেষ ইচ্ছে। মৃত্যুর পর মাটির অন্ধকারে চাপা পড়তে চায়নি সে। তাই ক্রায়োনিকস্ পদ্ধতিতে তরল নাইট্রোজেনে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে তার দেহ।

এই ঘটনার পরেই ইচ্ছাটা মাথা চাড়া দিয়েছিল ম্যাকলেনানের। ইচ্ছে, ওই কিশোরীর মতোই হাজার বছর বেঁচে থাকবেন তিনিও। নাই বা থাকল প্রাণ। তবু দেহটা তো বেঁচে থাকবে। হয়তো আগামীতে অত্যাধুনিক কোনও প্রযুক্তিতে বেঁচে উঠবেন তিনিও।

কিন্তু ইচ্ছের দাম তো অনেক। অ্যারিজোনার অ্যালকর লাইফ এক্সটেনশন ফাউন্ডেশন জানায়, সম্পূর্ণ দেহ সংরক্ষণ করতে খরচ পড়বে ৭৫ হাজার পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৬২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৭৫৭ টাকার কাছাকাছি। আর শুধুমাত্র মস্তিষ্ক সংরক্ষণের খরচ ৪০ হাজার পাউন্ড বা ৩৩ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭২০ টাকার কাছাকাছি। খরচের বহরের কথা মাথায় রেখে কিছুটা ‘পকেট বন্ধু’ মস্তিষ্ক সংরক্ষণকেই বেছে নিলেন ম্যাকলেনান। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর এত টাকা যোগাবে কে? উপায়ও বের করলেন নিজেই।
প্রতি মাসে ৫০ পাউন্ড অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০০০ টাকা করে দিতে শুরু করলেন অ্যালকর লাইফ এক্সটেনশন ফাউন্ডেশনে। যাতে তাঁর শেষ ইচ্ছায় কোনও বাধা না আসে।

মৃত্যুর পর কী ভাবে ম্যাকলেনানের দেহ নিয়ে যাওয়া হবে অ্যারিজোনায়? অ্যালকর ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রথমে অ্যান্টি-ফ্রিজিং তরলের মধ্যে রাখা হবে ম্যাকলেনানের দেহ। তার পর তা ডোবানো হবে বরফ জলে। এর পর পলিথিনের চাদরে মুড়ে তাঁকে অ্যালকোহল জলে অর্ধ নিমজ্জিত করে রাখা হবে। ম্যাকেলানের দেহ বরফের মধ্যে করে নিয়ে যাওয়া হবে অ্যারিজনায়। সেখানে অ্যালকর লাইফ এক্সটেনশন ফাউন্ডেশনে দেহ থেকে আলাদা করা হবে তাঁর মস্তিষ্ক। এবং ক্রায়োনিকস্ পদ্ধতিতে তরল নাইট্রোজেনে সংরক্ষণ করে রাখা হবে বহু বছর।
‘মৃত্যুতেও বেঁচে থাকব সবার মাঝে’— ইচ্ছা পূরণের আনন্দে উজ্জ্বল ডিজে ম্যাকলেনানের মুখ।