স্মার্টফোন যে ক্ষতি করছে আপনার?

0

বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটা অভ্যাস নিয়ে সবার মাঝেই অভিযোগ দেখা যায়, আর তা হলো সারাক্ষণ স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে থাকার প্রবণতা। ইন্টারনেট অ্যাকসেস থাকার কারণে তারা হাতের মুঠোয় সাড়া বিশ্বের জ্ঞান নিয়ে আসতে পারছে ঠিকই, কিন্তু তারমানে এই না যে তাদের বুদ্ধি বাড়ছে। বরং দেখা যাচ্ছে উল্টো প্রতিক্রিয়া। স্মার্টফোনের ওপর করা একটি নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এগুলো আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা এবং বুদ্ধি কমিয়ে দেয়।

এর পেছনে মূলত দায়ী ফোনের প্রতি আমাদের মনোযোগ, জানিয়েছেন গবেষকেরা। আমাদের মস্তিষ্কের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাটি সীমিত। আমাদের মস্তিষ্কের বেশিরভাগ মনোযোগ যদি ফোনের পেছনে থাকে, তাহলে অন্যান্য কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়, ফলে সেসব কাজে আমাদের দক্ষতা কমে। গবেষকেরা দেখেন, আপনার দৃষ্টিসীমার মাঝে একটি ফোন থাকা মানেই আপনার মনোযোগ কমে যাবে।

 

আপনি ছোটখাট কাজ করতে ব্যর্থ হবেন এবং আপনার স্মৃতিশক্তি কমে যাবে। ফোন পকেটে, ব্যাগে এমনকি পাশের ঘরে থাকলে মনোযোগে এত ব্যাঘাত ঘটে না। এই গবেষণার জন্য ৫২০ জন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীকে নেওয়া হয়। ফোনের আশেপাশে থাকা অবস্থায় তাদের বুদ্ধি এবং স্মৃতির পরীক্ষা করা হয়। ম্যাথেম্যাটিক, স্মৃতি এবং যুক্তির ওপর নির্ভর করে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন তারা।

এ সময়ে তাদের ফোন ডেস্কে, পকেটে, ব্যাগে বা পাশের রুমে রাখা হয়। দেখা যায়, যাদের ডেস্কে ফোন রাখা হয় তারা পরীক্ষায় ১০ শতাংশ কম নাম্বার পায়। স্পিড টেস্টেও তারা খারাপ ফল দেখায়। ফোন বন্ধ করে ডেস্কের ওপর রাখলেও একই ফলাফল পাওয়া যায়। যাদের ফোন পাশের রুমে ছিল তাদের ফলাফল এ তুলনায় ভালো হয়। এর থেকে বোঝা যায়, একজন মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখে স্মার্টফোন।

যারা নিজেরাই বলেন তারা ফোনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি হতে দেখা যায়। তারা নিজেদের মনোযোগ ফোন থেকে দূরে রাখার জন্যও অনেকটা শক্তি খরচ করেন, ফলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে তাদের ফল খারাপ হয়, বলেন এই গবেষণার লেখক ডক্টর অ্যাড্রিয়ান ওয়ার্ড। একে তিনি ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বলে অভিহিত করেন।

সেক্স লাইফ: স্মার্টফোন জীবনের সব কিছুরই সময় কেড়ে নিয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে স্মার্টফোনের নেশায় সেক্স লাইফও অবহেলা করেন। যাতে দূরত্ব বাড়ে সম্পর্কে।

টেক্সট নেক: ক্রমাগত মাথা ঝুঁকিয়ে টেক্সট করতে করতে টেক্সট নেকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে ঘাড়ের টিস্যুর গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।

বিচ্ছিন্নতা: কোথায় বেড়াতে গেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। অথচ আপনি শুধু স্মার্টফোনে নিজের সঙ্গেই ব্যস্ত। এমনটা হয়? এতে সকলের থেকে আপনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। যা মানসিক ভাবে আপনাকে ধীরে ধীরে একা করে দেয়।

দুর্ঘটনা: জানেন কি সারা বিশ্বে প্রতি দিন যত দুর্ঘটনা ঘটে তার মধ্যে বেশ কিছু দুর্ঘটনার কারণ রাস্তায় হাঁটাচলার সময় ফোনে কথা বলা।

চোখ: জানেন কি স্মার্টফোন আসার পর থেকে সারা বিশ্বে মায়োপিয়ার প্রকোপ ৩৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে?

ইনসমনিয়া: আমরা প্রত্যেকেই স্মার্টফোন নিয়ে ঘুমোতে যাই। রাতে শোওয়ার সময়ও ফোন চেক করার অভ্যাস ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে ইনসমনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে।

নমোফোবিয়া: ফোনের প্রতি এতটাই নির্ভরশীল যে এক ঘণ্টা ফোন না থাকলেই বা হঠাত্ খুঁজে না পেলেই পাগল পাগল লাগে। আর ফোন ছেড়ে থাকার কথা ভাবতেই পারেন না। এটাও কিন্তু এক ধরনের অসুখ। একে বলা হয় নমোফোবিয়া।

ক্সারসাইজ: ফোনের নেশা সারা দিন আমাদের এতটাই ব্যস্ত রাখে যে বসে বসে ফোনের পিছনেই সময় কেটে যায়। কী ভাবে যে দিনের পর দিন এ ভাবেই কাটিয়ে দিচ্ছি তা নিজেরাই বুঝতে পারি না। এর ফলে চলাফেরা কমে যায়। এক্সারসাইজের অভাবে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা।

ত্বক: স্মার্টফোনে ব্যবহৃত নিকেল, ক্রোমিয়াম, কোবাল্টের কারণে বিভিন্ন রকম ত্বকের সমস্যা, অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।

অবসাদ ও উত্কণ্ঠা: সঙ্গী কেন উত্তর দিচ্ছেন না? ঠিক কতগুলো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রয়েছি আমি? এই সব অযথা চিন্তায় অকারণ উত্কণ্ঠায় ভোগেন অনেকে। যা অবসাদ ডেকে আনতে পারে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন