লাইসেন্স ফি ৫০ কোটি টাকা
৪ কোম্পানি চালাবে সব মোবাইল টাওয়ার

২০১৬ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে দেশে টাওয়ার আছে ৩০ হাজার। তবে একটি টাওয়ার যাতে একাধিক অপারেটর ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে পারে, সে জন্য ২০০৮ সালে ‘টাওয়ার শেয়ারিং’ নীতিমালা চালু করে বিটিআরসি

শাহিদ বাপ্পি// দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে টাওয়ারের মালিকানা কিনে নিয়ে সেগুলো পরিচালনা করবে চার প্রতিষ্ঠান। তাদের লাইসেন্স দিতে একটি নীতিমালাও তৈরি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সেটি এখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে রয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, যে প্রতিষ্ঠান টাওয়ার পরিচালনার লাইসেন্স পাবে, তাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা থাকতে পারবে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মালিকানা হতে হবে দেশীয় কোম্পানির। অর্থাৎ এসব কোম্পানিতে দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ থাকবে। এ ছাড়াও লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ৫০ কোটি এবং বার্ষিক লাইসেন্স ফি হবে পাঁচ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে তৃতীয় পক্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোবাইল ফোন টাওয়ার ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। এ জন্য তখন একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়। তাতে দুটি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে দুটি প্রতিষ্ঠানকে সব টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিরোধিতা করে বাংলালিংকের মূল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বিটিআরসিকে একটি চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, এমন উদ্যোগ বাজারে ডুয়োপলি বা দুটি প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র আধিপত্য ও অদক্ষতা তৈরির সুযোগ করে দেবে। তাই অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও কারিগরি সক্ষমতা আছে এমন প্রতিষ্ঠানই যাতে টাওয়ার তৈরি করতে পারে, এমন সুযোগ থাকা উচিত। এতে বাজার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাও নিশ্চিত হবে।

তাই বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে দুটির পরিবর্তে চার কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে টাওয়ার পরিচালনায় যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ‘বিউটি কনটেস্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলেও জানানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন কমিটি নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে নির্বাচিত করবে। এতে অংশ নেওয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও আর্থিক সামর্থ্যরে বিষয়গুলো নির্দিষ্ট মানদ-ের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা হবে।

পরিবর্তিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, মোবাইল অপারেটর ও ওয়াইম্যাক্স অপারেটররা সরাসরি টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না। তবে কোনো আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের উল্লেখিত অপারেটরের শেয়ার থাকলে এবং ওই প্রতিষ্ঠান যদি লাইসেন্সের জন্য বিবেচিত হয় তাহলে আগেই শেয়ার ছাড়তে হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, দেশে মোবাইল অপারেটরদের টাওয়ার পরিচালনায় নীতিমালাটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীতিমালাটি সরকার অনুমোদন দিলেই বিটিআরসি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে দেশে টাওয়ার আছে ৩০ হাজার। তবে একটি টাওয়ার যাতে একাধিক অপারেটর ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে পারে, সে জন্য ২০০৮ সালে ‘টাওয়ার শেয়ারিং’ নীতিমালা চালু করে বিটিআরসি। দেশে টাওয়ারের সংখ্যা কমানো, জমি ও বিদ্যুতের অপচয় ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিটিআরসির অনাপত্তিপত্র নিয়ে মালয়েশিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইডটকো নতুন টাওয়ার তৈরি ও ব্যবস্থাপনার কাজ করছে। যদিও এ প্রতিষ্ঠানে মুঠোফোন অপারেটর রবির ২০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক তাদের টাওয়ার আলাদা কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনার জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করেছে।