নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// দীর্ঘ দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রতীক্ষার পর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল রাজধানীর কারওয়ানবাজারের জনতা টাওয়ারে অবস্থিত সরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। রোববার সকালে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অডিটোরিয়ামে পার্কের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

পার্কে স্টার্ট আপ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো থাকবে বলে জানান সজীব ওয়াজেদ। তিনি আশা করেন, এগুলোর মধ্যে থেকে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান বেরিয়ে আসবে।

ওয়াজেদ বলেন, তিনি যখন ভারতের বেঙ্গালুরুতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নিয়ে পড়তেন তখন সেখানে স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। আজ ভারত আউটসোর্সিংয়ে অন্যতম বড় দেশ। বাংলাদেশও একদিন সে পর্যায়ে যাবে। পার্কে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য (এমপি) শরিফ আহমেদ, আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, রেলওয়ের সচিবসহ আইসিটি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে বরাদ্দ পাওয়া প্রথম চারটি কোম্পানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পার্কের চতুর্থ তলায় অবস্থিত স্টার্টআপ ইনকিউবেটরে স্টার্টআপগুলোর জায়গা বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আয়োজন করা হয় ‘Connecting Start Ups Bangladesh’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা। ১৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী এই প্রতিযোগিতার জন্য www.ictd.gov.bd/connectingstartups বা www.connectingstartupsbd.net এই লিংক থেকে আবেদন করা যাবে। আবেদনকৃত স্টার্টআপগুলো পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিতদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। এর পর আগামী ডিসেম্বরে আয়োজিত বিপিও করফারেন্সে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সহযোগিতায় যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে উদ্বাবনীমূলক ও আন্তর্জাতিকমানের উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ১০টি উদ্যোগকে সফটওয়্যার টেকনোলজির পার্কে এক বছরের জন্য বিনামূল্যে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে। সেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বড় কনফারেন্স রুম ব্যবহারের সুবিধাসহ তাদের বিনিয়োগ সমস্যা সমাধান, মানোন্নয়নসহ উদ্যোগটি যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া বাকি ভালোউদ্যোগগুলো স্টার্টআপ ইউকিউবেটরে জায়গা ভাড়া নিতে পারবে।

অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্যায়ের উপস্থিত দুই শতাধিক স্টার্টআপ নিয়ে ‘Connecting Start Ups Bangladesh’ বিষয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে জনতা টাওয়ারকে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ঘোষণা করেছিলেন। তবে যথাযথভাবে ও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না করায় ২০১৩ সালে টেকনোপার্কের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। চুক্তি বাতিল করায় টেকনোপার্ক আদালতে মামলা করে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ২৭ মার্চ জনতা টাওয়ার টেকনোলজি পার্ক চালুর কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন আদালত। তবে কয়েক দফা শুনানির পর গত ৯ সেপ্টেম্বর টেকনোপার্কের মামলা খারিজ করে দেন আদালত।

এর আগে বেসরকারি পর্যায়ে অ্যাকচেঞ্জার, অগমেডিক্স এবং ডিজিকন নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যার পার্ক ঘোষণা করে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। এ তিনটি প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার পার্ক হিসেবে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।

জানা গেছে, জনতা টাওয়ারের পর চালু হতে যাচ্ছে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, গাজীপুরের কালিকাকৈর হাইটেক পার্ক। আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে পার্ক দুটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। একইসঙ্গে এগিয়ে চলছে মহাখালী আইটি ভিলেজ, বরেন্দ্র সিলিকন সিটি রাজশাহী, ইলেকট্রনিক সিটি সিলেট, চন্দ্রদীপ ক্লাউড চর, জনতা সফটওয়্যার পার্ক, চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর বাস্তবায়নের কার্যক্রম।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন