নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// শ্রম আইন অনুযায়ী কোম্পানির মুনাফার লভ্যাংশ না পেয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী। বুধবার এই মামলার পর ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান তাবাসসুম ইসলাম গ্রামীণফোনের উচ্চ পর্যায়ের পাঁচজনের কাছে লিখিত জবাব চেয়ে নোটিস জারি করেছেন।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব শেঠি, প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ শাহেদ, সদস্য মো. মাইনুর রহমান ভুইয়া, মো. মঈনুল কাদের ও আহমেদ মনজুরুদ্দোহাকে এই নোটিসের জবাব দিতে হবে ।

আগামী ২ নভেম্বর তাদের ব্যক্তিগতভাবে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে জবাব এবং প্রয়োজনীয় কাগজ বা দলিল আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ডের (অংশগ্রহণ তহবিল) পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে গ্রামীণফোনের অফিস সহকারী মো. কামরুল হাসান এ নালিশি মামলাটি করেন।

তার আইনজীবী আবদুল মান্নান বলেন, “বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধিত ২০১৩) ১৩২ ধারায় করা মামলাটি দেওয়ানি প্রকৃতির।”

কামরুল বলেন, “২০১০ সাল থেকে পাওনা মোট ২১ লাখ ৪৪ হাজার টাকার দাবিতে মামলা করা হয়েছে। বারবার চেয়েও এ টাকা পাচ্ছি না, যে কারণে শেষ পর্যন্ত আদালতের দারস্থ হতে হল।”
২০০৬ সাল থেকে গ্রামীণফোনে কাজ করছেন কামরুল। শ্রম আইন অনুসারে ২০১০ সালে এই প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড গঠন করা হয়।

শ্রম আইন অনুযায়ী, ১০০ জনের বেশি কর্মী সংখ্যার কোনো কোম্পানির হিসাব বছরের শেষ দিনে পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি টাকা এবং স্থায়ী সম্পদ দুই কোটি টাকা হলে শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল কিংবা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে বার্ষিক লভ্যাংশের ৫ শতাংশ জমা দিতে হয়।

আইনে বলা আছে, প্রত্যেক বছর অংশগ্রহণ তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থের দুই-তৃতীয়াংশ সমান অনুপাতে সকল সুবিধাভোগীদের মধ্যে নগদে বণ্টন করা হবে এবং এক-তৃতীয়াংশ ধারা (শ্রম আইনের) ২৪০ (১১) এর বিধান মোতাবেক বিনিয়োগ করা হবে, যার মুনাফা সুবিধাভোগীদের মধ্যে সমান অনুপাতে বণ্টন হবে।

কামরুল বলেন, “গত জুলাইয়ে ফান্ডের টাকা দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়, কিন্তু তখন শ্রমিকদের টাকা না দিয়ে শুধু অফিসারদের টাকা দেওয়া হয়েছিল। কোনো শ্রমিক এ ফান্ডের টাকা পায়নি।”

তার দাবি, গ্রামীণফোনের বিভিন্ন বিভাগের তিন হাজার কর্মচারী প্রায় ৭০০ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাবে।

এই মামলার প্রতিক্রিয়া জানতে গ্রামীণফোনে ই-মেইল করা হলে ফিরতি ই-মেইলে বলা হয়, তারা আদালতের কোনো আদেশ বা নোটিস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পাননি। তাই এ বিষয়ে এখনি কিছু তারা বলতে পারছেন না।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন