৬৯১ কোটি টাকার প্যাচ!
কর্মীদের মামলায় ফেঁসেছে গ্রামীণফোন

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// গ্রামীণফোনের কর্মচারীদের প্রফিট ফান্ডের ৬৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৬ হাজার ১৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ৫ কর্মী।

রোববার সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম ইউসুফ হোসেনের আদালতে গ্রামীণফোনের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের পাঁচ কর্মচারী এ মামলাটি করেন। এঁরা হলেন গ্রামীণফোন লিমিটেডের পরিবহন শ্রমিক মেহেদী হাসান, মাসদি হাসান, ডেটা অ্যান্ট্রি অপারেটর মো. সোহাগ, অফিস সহকারী আফজাল হোসেন ও অপটিক্যাল ফাইভার অপারেটর নিজাম উদ্দিন পাটোয়ারি।

মামলায় আসামি করা হয়েছে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব শেঠি, প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাজী মো. শহীদ, সদস্য মো. মাইনুর রহমান ভুঁইয়া, মো. মঈনুল কাদের ও আহমদ মনজুরুদ্দোহা। বাদী মেহেদী হাসান গ্রামীণফোন লিমিটেডের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য বলে এজাহারে দেওয়া পরিচয়ে উল্লেখ করেছেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী হলেন মাহমুদুল হাসান। হাকিম ইউসুফ হোসেন আরজি গ্রহণ করে রাজধানীর ভাটারা থানার ওসিকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলাটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ পাঁচ বাদীর পক্ষে গ্রামীণফোন লিমিটেডের পরিবহন শ্রমিক মেহেদী হাসান বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি দেন। বিচারক জবানবন্দি গ্রহণ করে আগামী ধার্য তারিখের মধ্যে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বরাত দিয়ে আইনজীবী জানান, আসামিরা গ্রামীণফোন ওয়ার্কার্স প্রফিট ফান্ড অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ফান্ডের এক হাজার ৩০০ কর্মচারীর ৬৯১ কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। পাওনা টাকার জন্য মামলার বাদীরা আবেদন করলে আসামিরা বিভিন্নভাবে বাদীদের অপমান ও অপদস্ত করতেন। মামলায় আরো বলা হয়, ২০১০ সালে সরকার কোম্পানির লাভের পাঁচ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করার ঘোষণা দেয়, যা ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর গ্রামীণফোন লিমিটেডের পরিচালক সভায় পাস হয়। সর্বশেষ, চলতি বছরের মার্চ মাসে আসামিরা শ্রমিকদের বঞ্চিত করে লভ্যাংশের ৬৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৬ হাজার ১৮৩ টাকা না দিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। এতে বাদীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪১৭/৪১৮/৪২৬/৪৭৭ এ ধারায় মামলাটি করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রামীণফোন ওয়ার্কার্স প্রফিট ফান্ড অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ১৩শ কর্মচারীর ৬৯১ কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত করেছেন বিবাদীরা। পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে অপমান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এর আগে গত ২১ অক্টোবর শ্রম আইন অনুযায়ী কোম্পানির মুনাফার লভ্যাংশ না পেয়ে একই অভিযোগ তুলে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা করেন প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী মো. কামরুল হাসান। ওই মামলাতেও একই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জবাব এবং প্রয়োজনীয় কাগজ বা দলিল আদালতে দাখিল করতে বলেন ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান তাবাসসুম ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গ্রামীণফোনে ২০১০ সালে ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড বা কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী, ১০০ জনের বেশি কর্মী সংখ্যার কোনো কোম্পানির হিসাব বছরের শেষ দিনে পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি টাকা এবং স্থায়ী সম্পদ দুই কোটি টাকা হলে শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল কিংবা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে বার্ষিক লভ্যাংশের ৫ শতাংশ জমা দিতে হয়।

আইনে বলা আছে, প্রত্যেক বছর অংশগ্রহণ তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থের দুই-তৃতীয়াংশ সমান অনুপাতে সকল সুবিধাভোগীদের মধ্যে নগদে বণ্টন করা হবে এবং এক-তৃতীয়াংশ ধারা (শ্রম আইনের) ২৪০ (১১) এর বিধান মোতাবেক বিনিয়োগ করা হবে, যার মুনাফা সুবিধাভোগীদের মধ্যে সমান অনুপাতে বণ্টন হবে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন