লিফটে চড়েই চাঁদে যাওয়া সম্ভব!

0

নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// লিফটে চড়ে যদি ১০০ তলা ভবনের ছাদে ওঠা যায়, তবে চাঁদে যেতে সমস্যা কোথায়? কাজেই এমন একটা লিফট বানানো গেলে পৃথিবী থেকে চাঁদে পৌঁছতে আর মহাকাশযান লাগবে না। লিফটে বা এলিভটরে ঢুকে বোতাম টিপলেই সরাসরি চাঁদে! রসায়নের এক যুগান্তকারী আবিষ্কার সেই স্বপ্নই দেখাচ্ছে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে স্পেস এলিভেটরের ধারণা নতুন নয়।

পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহে যাওয়া, মহাকাশ স্টেশন বা চাঁদে পৌঁছনোর জন্য বার বার মহাকাশযান বানিয়ে বিপুল খরচ করার চেয়ে স্থায়ী স্পেস এলিভেটর বানিয়ে নেওয়ার কথা মহাকাশ গবেষকরা অনেক আগেই ভেবে আসছেন। কারণ স্পেস এলিভেটর বানানো সম্ভব হলে, মহাকাশে যাওয়ার পদ্ধতিও অনেক সহজ হতো। গবেষণার প্রয়োজনে যখন তখন মহাকাশে যাওয়া যেত। কিন্তু স্পেস এলিভেটর তৈরি এত সোজা নয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উপযুক্ত থ্রেড বা রশি তৈরি করা। বহুতল বাড়িতে খুব শক্ত থ্রেড বা রশি বেয়েই লিফট ওঠানামা করে। কিন্তু বহুতলে ব্যবহৃত সেই থ্রেডের ভরসায় যে পৃথিবী থেকে চাঁদ পর্যন্ত লিফট ঝুলিয়ে দেওয়া যায় না, তা সবাই বোঝেন।

আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এবার এমন রশি আবিষ্কার করে ফেলেছেন, যা পৃথিবীর এতদিনের ইতিহাসে আবিষ্কৃত সবচেয়ে মজবুত বস্তু। অন্তত তেমনটাই দাবি বিজ্ঞানীদের। এই থ্রেডের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডায়মন্ড ন্যানো থ্রেড’। হীরে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত পাথর। এর কথা মাথাই রেখেই এমন নামকরণ। রসায়নের অধ্যাপক জন ব্যাডিং-এর নেতৃত্বে এই গবেষণা হয়েছে। তরল বেঞ্জিনের বিচ্ছিন্ন অণুর ওপর চাপ প্রয়োগ করেন গবেষকরা। তাদের ধারণা ছিল, বেঞ্জিনের অণুগুলি অসংগঠিত আচরণ করবে। কিন্তু গবেষকরা দেখে অবাক হয়ে যান যে, বিশেষ চক্রের মাধ্যমে দেওয়া চাপ, তরল বেঞ্জিনকে কার্বন পরমাণুর কঠিন শৃঙ্খলে পরিণত করছে।

রসায়নের গবেষকরা বলছেন, কার্বনের যে নতুন রূপটি পেনসিলভেনিয়ার গবেষণাগারে জন্ম নিয়েছে, তা পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত পদার্থগুলির মধ্যে সবচেয়ে শক্ত, সর্বাপেক্ষা কঠিন। বিজ্ঞানীরা এই কার্বন শৃঙ্খলেরই নাম দিয়েছেন ডায়মন্ড ন্যানো থ্রেড। এই ডায়মন্ড ন্যানো থ্রেড খুব সুক্ষ্ম। মানুষের চুলের চেয়ে তা ২০ হাজার ভাগ পাতলা। ফলে খুব হালকা। কিন্তু অবিশ্বাস্য মজবুত। স্পেস এলিভেটর তৈরির জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত আর কিছু হতেই পারে না, দাবি পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির। পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ, মহাকাশ স্টেশন, চাঁদ বা মহাকাশের অন্য যেকোনো বিন্দু পর্যন্ত এই ডায়মন্ড থ্রেডের কাঠামো বানানো গেলেই, সেই থ্রেড বেয়ে স্পেস এলিভেটরের ওঠানামা সম্ভব হবে, মনে করছেন গবেষকরা। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও ডায়মন্ড ন্যানো থ্রেড তৈরির গবেষণায় সাফল্য পেয়েছে ইতিমধ্যেই। উদ্যোগ যদি ঠিক পথে এগোয়, তা হলে মহাকাশ গবেষণার অবিশ্বাস্য নতুন দিগন্ত তো খুলবেই। মহাকাশে পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়েও ভাবতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। সূত্র : সায়েন্স, আনন্দবাজার

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন