নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেল বাংলাদেশের একীভূত হওয়ার অনুমতি চেয়ে পাঠানো চিঠি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

একীভূত হওয়ার প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি এর আইনগত দিকগুলোও যাচাই করেছে বিটিআরসি। রবি-এয়ারটেল একীভূত হওয়ায় অনুমোতিতে কর্মীদের চাকরি না যাওয়া শর্ত থাকতে পারে। প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ার পর দুই কোম্পানির কর্মীদের চাকরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বুধবার রাজধানীর রমনায় বিটিআরসি কার্যালয়ে সংস্থার কমিশন সভায় দুই মোবাইল কোম্পানির একীভূত হওয়ার প্রস্তাবটি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয় বলে বিটিআরসির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্যবসা এক করার আলোচনা শুরু করে বাংলাদেশের এই দুই মোবাইল ফোন অপারেটর। এরই ধারাবাহিকতায় একীভূত হওয়ার অনুমতি চেয়ে এয়ারটেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত দাস শর্মা এবং রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুপুন বীরাসিংহে স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিটিআরসিতে পাঠানো হয়।

দুই কোম্পানির যৌথ চিঠিতে বলা হয়, এক হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের ৭৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ ও এনটিটি ডোকামোর কাছে, বাকি ২৫ শতাংশ শেয়ার ভারতী এয়ারটেলের কাছে থাকবে। রবির ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ৭০ শতাংশ শেয়ার থাকবে আজিয়াটার কাছে আর ৫ শতাংশ থাকবে ডোকোমোর কাছে।

দুটি কোম্পানি একীভূত হলে গ্রাহকদের কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না বলে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, এতে গ্রাহকসেবা আরও উন্নত হবে। এয়ারটেলের গ্রাহকদের নম্বর (০১৬ দিয়ে শুরু) অপরিবর্তিত থাকবে। তিন বছর পর ০১৬ দিয়ে নতুন সংযোগ দেওয়া হবে না।

বিটিআরসির বুধবারের সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই কোম্পানি একীভূত হলে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরই চাকরির নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা হবে কি না তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিটিআরসির এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমতি দিলে দুই অপারেটরকে কোম্পানি সম্পর্কিত বিষয় নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের এমন একটি বেঞ্চে যেতে হবে।

সেখানে কারও কোনো আপত্তি না থাকলে, আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরই বিটিআরসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারবে। সংশ্লিষ্টদের মতে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি শেষে দুই কোম্পানি একীভূত হওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।

কোম্পানি দুটি এক হলে ৩ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহক নিয়ে এটাই হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুঠোফোন অপারেটর। বর্তমানে ৫ কোটি ৩৯ লাখ গ্রাহক নিয়ে বাংলাদেশে শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। আর ৩ কোটি ২৪ লাখ গ্রাহক নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলালিংক।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন