পরিবর্তন হচ্ছে না পূর্ববর্তী কলরেট

0

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক, টেকজুমডটটিভি// মোবাইল ফোনের কলরেট পরিবর্তনে আগের অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কলরেট পরিবর্তনে বিটিআরসির একটি প্রস্তাব গত সপ্তাহে ফেরত পাঠিয়েছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ওই প্রস্তাবে একই অপারেটরে (অননেট) কল করার সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ পয়সা আর অন্য অপারেটরে (অফনেট) সর্বনিম্ন মূল্য ৬০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৪৫ পয়সা করার প্রস্তাব করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রস্তাব ফেরত পাঠানোর পর গতকাল বিটিআরসির নিয়মিত কমিশন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা হয়। সব দিক বিশ্লেষণ করে বিটিআরসি আগের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রেখেছে। গতকালের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এ বিষয়ে আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছে।

কলরেট পরিবর্তনে বিটিআরসির যুক্তি হলো অননেট-অফনেট কলের ব্যবধান কমিয়ে গ্রাহকদের ফোন খরচ কমাতেই কলের নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমএনপি (নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল) হলে বাজারে যেন অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টিও মূল্যহার পুনর্র্নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ প্রস্তাব তৈরির আগে মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকেও মতামত নিয়েছে বিটিআরসি। তারা এ পরিবর্তনের বিষয়ে সহমত ব্যক্ত করেছে।

বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অফনেটে সর্বনিম্ন কলরেট এখন কাগজ-কলমে ২৫ পয়সা হলেও বাস্তবে অননেট কলের সর্বনিম্ন মূল্য ৪০ পয়সা। সেটি ৩৫ পয়সা করা হলে গ্রাহকের খরচ কমবে। কারণ তার অফনেট কলের খরচও কমে আসছে। জানতে চাইলে রবি আজিয়াটার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র ইকরাম কবীর বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ সিদ্ধান্তকে রবি স্বাগত জানায়। এতে আসলেই গ্রাহক উপকৃত হবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ছাড়া এ মুহূর্তে আর কোনো দেশে অননেট-অফনেট কলের জটিল হিসাব নেই। সর্বশেষ ২০১৬ সালে শ্রীলংকা অননেট-অফনেট কলের হিসাব তুলে দেয়। অননেট-অফনেট কলের জটিল হিসাব ছাড়াও এখানে ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ বা আইসিএক্স নামের মধ্যস্বত্বভোগী থাকার কারণেও গ্রাহকদের ফোন কলের ব্যয় বাড়ছে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে এখন আইসিএক্স নেই।

আইসিএক্স থাকার কারণে এ মুহূর্তে অননেট-অফনেটের হিসাব একেবারে তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিটিআরসির বিশ্লেষণে জানা যায়, কলরেট পরিবর্তনের নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ছোট অপারেটর থেকে বড় অপারেটরে কল করার খরচ কমবে। যেমনÑ টেলিটক থেকে গ্রামীণফোনে কল করতে বর্তমানে ন্যূনতম খরচ ৬০ পয়সা। সেটি এখন কমে ৪৫ পয়সা হবে। এতে গ্রাহকসংখ্যায় পিছিয়ে থাকা অপারেটররা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে।

অপারেটরদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রামীণফোনের অননেট কলের গড় মূল্য ৪৪ পয়সা, আর অফনেট কলের মূল্য ১ টাকা ৫৬ পয়সা। রবির গড় অননেট কলের মূল্য ৩৯ পয়সা ও অফনেটে ৯১ পয়সা। বাংলালিংকের অননেট ৩৯ পয়সা ও অফনেট ৮৯ পয়সার এবং টেলিটকের অননেট ৩৪ পয়সা ও অফনেট ৮৬ পয়সা। আবার গ্রামীণফোন থেকে ৭৫ শতাংশ কল হয় অননেটে, ২৫ শতাংশ কল অফনেটে হয়। রবির ৫৮ শতাংশ কল অননেটে ও ৪২ শতাংশ কল অফনেটে; বাংলালিংকের ৫৫ শতাংশ কল অননেটে ও ৪৫ শতাংশ কল অফনেটে এবং টেলিটকের ২০ শতাংশ কল অননেটে এবং ৮০ শতাংশ কল অফনেটে হচ্ছে।

বিটিআরসি হিসাব করে বলছে, অফনেট কলের জন্য গ্রাহকদের অননেটের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। আবার অফনেট কলের ক্ষেত্রে অপারেটরকে মধ্যস্বত্বভোগী আইসিএক্স অপারেটরদের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হয়। অফনেট কলের মূল্য অস্বাভাবিক বেশি হওয়ার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন