২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিভিন্ন আর্থিক সূচকে বেশ ভালো করেছে দেশের প্রথম বেসরকারি খাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি।
এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নিট সুদ আয় ও বিনিয়োগ আয় বাড়ার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণে এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট সুদ আয় ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। অন্যদিকে এ সময়ে সুদ ব্যয় মাত্র ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ১৮৪ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে নিট সুদ আয় ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৫৮ কোটি ১০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের বিনিয়োগ থেকেও ভালো আয় হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজ ও বিস্তৃত ট্রেজারি পোর্টফোলিও থেকে উচ্চ আয় হওয়ায় বিনিয়োগ খাতে আয় ৩২ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কমিশন ও ব্রোকারেজ আয় ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। সব মিলিয়ে মোট পরিচালন আয় বেড়ে ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক অবস্থানে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় মাত্র ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে সঞ্চিতি-পূর্ব মুনাফা ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৫৪ কোটি ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির ঋণ, অগ্রিম ও লিজের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকায়, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কম। অন্যদিকে এ সময়ে মোট আমানত ১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকায়।
প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৯ পয়সায়। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ১৮ টাকা ১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ১৭ টাকা ৮৫ পয়সা।
কোম্পানির আর্থিক ফলাফলের বিষয়ে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, ‘প্রথম প্রান্তিকের এ ফলাফল আইপিডিসির ব্যবসায়িক ভিত্তির দৃঢ়তা ও কৌশলগত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের প্রতিফলন। গ্রাহকদের আস্থা আরো শক্তিশালী করা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা এবং সব অংশীজনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রমবিকাশমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৮০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪০৯ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৪১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪০ কোটি ৯১ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০। এর ৪০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ২১ দশমিক ৮৮, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৯ দশমিক ১০, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।



















