গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে মোটরযানে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২৬টি ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস) প্রতিষ্ঠানকে মোটরযানে জিপিএস ট্র্যাকিং সেবা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বিআরটিএর ১০ আগস্ট হালনাগাদ করা প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্থাটির কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যানবাহনের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য সরবরাহ করতে হবে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাথমিক তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেড, ইফাদ ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেড, ওভাই সলিউশন লিমিটেড, বন্ডস্টেইন টেকনোলজিস লিমিটেড, এনআইটিএস সার্ভিস, নেক্সডিকেড টেকনোলজিস, অন্যরকম ইলেকট্রনিকস, মনিকো টেকনোলজিস, ট্র্যাকিং অ্যান্ড সার্ভে সলিউশনস ও এমটুএম কমিউনিকেশনস।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে থেন সিস্টেমস, অটনেমো, ইজিট্র্যাক্স ওয়ার্ল্ড, ফরবিট, অটো জেনারেশন, ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল, আজান টেক, এম ট্র্যাক, সান সিটি বিজ, জিকার সলিউশনস, বঙ্গ টেকনোলজি, মাকত্রো ইলেকট্রনিকস, ট্র্যাকিং বিডি, মাইজিপিএস এবং আয়েশা টেকনোলজি।
কেন্দ্রীয় সার্ভারে যুক্ত হবে গাড়ির তথ্য
বিআরটিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, যানবাহনে থাকা জিপিএস ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে।
বিশেষ করে গণপরিবহনের অবস্থান, চলাচলের রুট এবং গতি পর্যবেক্ষণে এ ব্যবস্থা ব্যবহার করা যাবে। কোনো যান নির্ধারিত রুটের বাইরে গেলে বা অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম করলে তা শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।
জিপিএসের লাইভ ট্র্যাকিং সুবিধা চালু হলে যাত্রীরাও অপেক্ষারত অবস্থায় একটি বাসের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনা বা বেপরোয়া চালনার মতো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যানবাহনের গতিপথ শনাক্ত করাও সহজ হবে।
আগস্ট থেকে বাধ্যতামূলক জিপিএস
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের গত ১১ জুনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস সংযোজন এবং তা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২৫ ধারা এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৫৫ বিধির আওতায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপনের প্রমাণ ও তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে নতুন নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ডিভাইসের কারিগরি বৈশিষ্ট্যও বিআরটিএর ওয়েবসাইট ও স্থানীয় কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।
খরচ কত হতে পারে
ভিটিএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একটি গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার বসাতে ডিভাইসভেদে এককালীন প্রায় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। এর বাইরে ট্র্যাকিং সেবা ব্যবহারের জন্য মাসিক ফি দিতে হবে।
জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান, গতি ও চলাচলের রুট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যায়। ওভারস্পিড অ্যালার্টের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি শনাক্ত করা এবং জিওফেন্সিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত রুটের বাইরে যানবাহন চলাচলের তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিআরটিএর তালিকা এখনো প্রাথমিক
বিআরটিএ জানিয়েছে, ২৬ প্রতিষ্ঠানের তালিকাটি প্রাথমিক। কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে পরীক্ষামূলক এপিআই সংযোগের কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি সক্ষমতা যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপনে পরিবহন মালিকদের বাড়তি খরচ হলেও কার্যকরভাবে মনিটরিং করা গেলে এর মাধ্যমে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে বেপরোয়া গতি, রুট পরিবর্তন এবং বাসের রেষারেষি নিয়ন্ত্রণে এ প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে।
তবে শুধু যানবাহনে ডিভাইস বসালেই উদ্যোগের সুফল মিলবে না। কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা নিয়মিত সচল রাখা, পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ এবং নিয়ম ভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরই জিপিএসভিত্তিক এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।





















