আগামী বছরের শুরুতে আবারও ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
এবার এনইআইআরের সঙ্গে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের সুবিধাও রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তখন এই উদ্যোগ আলোর মুখ দেখিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়েন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব।
মোবাইল ব্যবসায়ীরা তখন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে থাকেন। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া হলেও এনইআইআর চালুর বিপক্ষে অনড় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ৬ মাস পেরুতেই ফের একই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, এনইআইআর চালুর পর দেশে আমদানি করা হ্যান্ডসেটগুলো এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে নিবন্ধিত হবে।
বিটিআরসির গত সপ্তাহের কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পর এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। হ্যান্ডসেট শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে এটি বিটিআরসির তৃতীয় উদ্যোগ।
এনইআইআর হচ্ছে হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরভিত্তিক একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার। মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত ফোনের আইএমইআই নম্বর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। ফলে অবৈধভাবে তৈরি বা আমদানি করা এবং চুরি যাওয়া হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, বিটিআরসি দুই ধাপে এনইআইআর চালু করবে। প্রথম ধাপ শুরু হবে ১ জানুয়ারি। এ ধাপে ব্যবস্থাটির মূল নকশায় থাকা প্রায় সব সুবিধা চালু থাকবে। তবে হ্যান্ডসেটের মালিকানা পরিবর্তন বা ডি-রেজিস্ট্রেশনের সুবিধা থাকবে না।
ডি-রেজিস্ট্রেশন চালুর আগে সরকারের অনুমোদন নেবে বিটিআরসি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে এ অনুমোদন চাওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে সুবিধাটি চালু করা হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপ চালুর নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু হলে একটি হ্যান্ডসেটের মালিকানা এক ব্যবহারকারী থেকে অন্য ব্যবহারকারীর নামে পরিবর্তন করা যাবে। এতে ব্যবস্থাটিতে প্রতিটি হ্যান্ডসেটের সঙ্গে তার বর্তমান বা সর্বশেষ মালিকের তথ্য যুক্ত থাকবে।
এদিকে প্রথম ধাপে অবৈধভাবে তৈরি ও আমদানি করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা ফোনের বিক্রি ও ব্যবহারও বন্ধ করা সম্ভব হবে। তবে প্রথম ধাপে ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা যাবে না বলে বিটিআরসির সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এ ধরনের হ্যান্ডসেট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে বর্তমানে সচল থাকা সব হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে নিবন্ধিত হবে। আমদানিকারকেরাও তাদের আমদানি করা হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে পারবেন।
আগে আমদানি করা হলেও এখনো বিক্রি না হওয়া হ্যান্ডসেট এবং গুদামে মজুত থাকা ফোনের তথ্যও এনইআইআরে দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।




















