কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদার ওপর ভর করে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের পরিচালন মুনাফা প্রায় নয় গুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের অব্যাহত ঘাটতির কারণে বিশ্বের বৃহত্তম এই মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি ১০৬ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন কোরীয় ওন (প্রায় ৭ হাজার ৯১০ কোটি মার্কিন ডলার) পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
এর আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা ছিল ১২ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন ওন। এর মাধ্যমে টানা চতুর্থ প্রান্তিকের মতো রেকর্ড মুনাফার দেখা পেতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
মূল্যবৃদ্ধির ধীরগতি ও মার্জিনে স্থিতাবস্থা
চলতি প্রান্তিকে আকাশচুম্বী মুনাফা হলেও মেমোরি চিপের দরবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হতে শুরু করেছে। ট্রেন্ডফোর্সের তথ্যানুসারে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে মেমোরি চিপের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়লেও চতুর্থ প্রান্তিকে প্রথাগত ডিরাম চিপের চুক্তিভিত্তিক দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
মূলত গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং স্মার্টফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের চড়া দামের কারণে দরবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। ফলে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের মেমোরি চিপ বিভাগের পরিচালন মুনাফার মার্জিন হতে পারে প্রায় ৭৬ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী প্রান্তিকের প্রায় সমান।
মুনাফার হার আর না বাড়ায় প্রযুক্তি খাতে এআই-কেন্দ্রিক খরচের ধারাবাহিকতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে।
এইচবিএম চিপে উন্নতি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ
এআই ডাটা সেন্টারের অন্যতম প্রধান উপাদান হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি বা এইচবিএম চিপের বাজারে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে স্যামসাং। বিশেষ করে তাদের সর্বাধুনিক ‘এইচবিএম৪’ চিপের সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারপ্রধান প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের সঙ্গে ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনছে তারা।
আর্থিক বিশ্লেষণী সংস্থা জেপি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্ব এইচবিএম বাজারে স্যামসাংয়ের অংশীদারিত্ব গত বছরের ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এই ইতিবাচক সম্ভাবনার মাঝেও মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা ওনের দরবৃদ্ধি এবং সস্তা মেমোরি চিপ উৎপাদনে চীনা প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্রতিযোগিতা স্যামসাংয়ের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।





















