স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গুগল ক্রোমের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু এই জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা তৈরি করেছিল ক্রোমের মতো দেখতে একটি ভুয়া অ্যাপ। নাম, লোগো এমনকি অ্যাপের ছবিও ছিল আসলের মতো। ফলে গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপটি দেখে অনেক ব্যবহারকারীর পক্ষে আসল ও নকলের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপটির ডাউনলোড সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছিল। পরে বিষয়টি সামনে এলে গুগল অ্যাপটি স্টোর থেকে সরিয়ে দেয়।
কীভাবে ধরা পড়ল ভুয়া ক্রোম অ্যাপ?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর রেড্ডিডে এক ব্যবহারকারী একই রকম দেখতে দুটি ক্রোম অ্যাপের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। সেখানে একটি অ্যাপের প্রকাশক হিসেবে ‘Hizbartech’-এর নাম দেখা যায়। অন্যদিকে, আসল ক্রোম অ্যাপের প্রকাশক ‘গুগল এলএলসি’। এই পার্থক্য থেকেই ভুয়া অ্যাপটি শনাক্ত করার সূত্র পাওয়া যায়।
অ্যাপটির নাম ও লোগো ক্রোমের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হতে পারতেন। এমনকি সার্চের ফলাফলে বিজ্ঞাপন হিসেবে অ্যাপটি আসল অ্যাপের ওপরেও দেখা যাচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো অ্যাপ বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেই সেটি গুগলের অনুমোদিত বা নিরাপদ এমন নিশ্চয়তা নেই।
প্রথমে ক্রোম ছিল না, ছিল গেম
ভুয়ো অ্যাপটির বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এটি শুরু থেকেই ক্রোম নামে প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৬ সালের অগস্টে ‘বল বাউন্স’ নামের একটি মোবাইল গেম হিসেবে অ্যাপটি প্লে স্টোরে আসে। পরে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অ্যাপটির নাম, ছবি ও বিবরণ পরিবর্তন করে ক্রোমের মতো সাজানো হয়।
এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অ্যাপটির মোট ডাউনলোড এক লাখ ছাড়ানোর অর্থ এই নয় যে, এত মানুষ ভুয়া ক্রোম ব্রাউজারটি ইনস্টল করেছিলেন। গেম হিসেবে থাকার সময়ের ডাউনলোডও ওই সংখ্যার মধ্যে থাকতে পারে। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাপটি ব্রাউজার হিসেবে কাজ না করে একটি চ্যাট পরিষেবা খুলত।
আসল ক্রোম অ্যাপ চিনবেন কীভাবে?
শুধু পরিচিত লোগো বা অ্যাপের নাম দেখেই কোনো অ্যাপ ইনস্টল করা উচিত নয়। কয়েকটি বিষয় যাচাই করলে ঝুঁকি কমানো যায়।
১. প্রকাশকের নাম পরীক্ষা করুন
গুগল প্লে স্টোরে ক্রোমের অ্যাপের পাতায় প্রকাশক হিসেবে ‘গুগল এলএলসি’ লেখা আছে কি না দেখুন। নামের বানানে সামান্য পরিবর্তন থাকলেও সতর্ক হোন।
২. অ্যাপের তথ্য মিলিয়ে নিন
অ্যাপের বিবরণ, স্ক্রিনশট, আপডেটের তথ্য এবং ব্যবহারকারীদের পর্যালোচনা দেখুন। বিবরণের সঙ্গে অ্যাপের কাজের মিল না থাকলে সেটি এড়িয়ে চলুন।
৩. ডাউনলোড সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না
বেশি ডাউনলোড বা ভালো রেটিং থাকলেই কোনো অ্যাপ আসল প্রমাণিত হয় না। প্রতারকেরা পরিচিত অ্যাপের নাম ও চেহারা নকল করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
৪. বিজ্ঞাপন দেখেই বিশ্বাস করবেন না
সার্চের ফলাফলে স্পনসরড অ্যাপ সামনে আসতে পারে। তাই বিজ্ঞাপনের অবস্থান নয়, প্রকাশকের পরিচয় যাচাই করাই জরুরি।
৫. বিশ্বস্ত উৎস ব্যবহার করুন
ক্রোম ইনস্টল বা আপডেট করার সময় গুগল প্লে স্টোরের সঠিক অ্যাপের পাতা ব্যবহার করুন। অচেনা ওয়েবসাইট থেকে APK ফাইল ডাউনলোড করা এড়িয়ে চলুন।
ভুল করে ভুয়া অ্যাপ ইনস্টল করলে কী করবেন?
ফোনে এমন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করা থাকলে প্রথমে সেটি আনইনস্টল করুন। এরপর গুগল প্লে স্টোরের প্লে প্রোটেক্ট ব্যবহার করে ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপের জন্য স্ক্যান চালান। অ্যাপটিকে কোনো অনুমতি দিয়ে থাকলে সেটিও পর্যালোচনা করুন।
ভুয়ো অ্যাপের মধ্যে পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত তথ্য বা অন্য সংবেদনশীল তথ্য দিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলান। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করলে সেখানেও পরিবর্তন করুন। প্রয়োজন হলে দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করুন।
স্মার্টফোনে নিরাপদ থাকার জন্য প্রতিটি অ্যাপ ইনস্টল করার আগে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে তার প্রকাশকের পরিচয় যাচাই করা জরুরি। কারণ পরিচিত নাম ও লোগো দেখেই কোনো অ্যাপকে আসল ধরে নেওয়া এখন আর নিরাপদ অভ্যাস নয়।


















