মধ্যম বাজেটের স্মার্টফোনের বাজারে নতুন দুটি মডেল আনার দাবি সামনে এসেছে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে ঘিরে। প্রচারিত তথ্যে বলা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির এনজয় সিরিজে যুক্ত হয়েছে **হুয়াওয়ে এনজয় ১০০ প্রো (Huawei Enjoy 100 Pro)** এবং **এনজয় ১০০ প্রো ম্যাক্স (Huawei Enjoy 100 Pro Max)**। ফোন দুটিতে নিজস্ব কিরিন প্রসেসর, ওএলইডি ডিসপ্লে ও বড় ব্যাটারির সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রচারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এনজয় ১০০ প্রো-এর দাম শুরু ১ হাজার ৭৯৯ ইউয়ান থেকে। অন্যদিকে, এনজয় ১০০ প্রো ম্যাক্সের প্রারম্ভিক দাম বলা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান। তবে মডেল দুটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও মূল্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
হুয়াওয়ে এনজয় ১০০ প্রো: ১২০ হার্টজ ওএলইডি ডিসপ্লে
ফাঁস হওয়া স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, হুয়াওয়ে এনজয় ১০০ প্রো-তে থাকতে পারে ৬.৭ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস ওএলইডি ডিসপ্লে, যার রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। প্রসেসর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হুয়াওয়ের কিরিন ৮০২০এ (Kirin 8020A) চিপসেট। ফোনটিতে সর্বোচ্চ ৫১২ জিবি স্টোরেজ থাকার কথাও বলা হয়েছে।
ক্যামেরার ক্ষেত্রে পেছনে থাকতে পারে ৫০ মেগাপিক্সেলের আরওয়াইওয়াইবি (RYYB) সেন্সর, যার অ্যাপারচার এফ/১.৮। এই প্রযুক্তিতে প্রচলিত আরজিবি সেন্সরের রঙিন ফিল্টার বিন্যাসের পরিবর্তে হলুদ উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বেশি আলো সংগ্রহে সহায়তা করতে পারে। তবে ৪০ শতাংশ বেশি আলো ধারণের দাবিটি কোন সেন্সর ও পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করে করা হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকার কথা বলা হয়েছে। ব্যাটারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৬,১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের (এমএএইচ) ইউনিট, সঙ্গে ৪০ ওয়াটের তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং।
ফোনটির সম্ভাব্য চারটি রঙ হলো ফেদার পার্পল, ফেদার স্যান্ড হোয়াইট, পিকক ব্লু ও ফ্যান্টম নাইট ব্ল্যাক।
এনজয় ১০০ প্রো ম্যাক্স: বড় ডিসপ্লে ও ব্যাটারি
সিরিজের উচ্চতর মডেল এনজয় ১০০ প্রো ম্যাক্সে ৬.৮৪ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ ওএলইডি ডিসপ্লে থাকতে পারে বলে প্রচারিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে। ডিসপ্লেটির সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৮,০০০ নিটস বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই উজ্জ্বলতা সাধারণ ব্যবহারে, এইচডিআর কনটেন্টে নাকি নির্দিষ্ট পরীক্ষার পরিস্থিতিতে পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত নয়।
ফোনটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হতে পারে ৮,৮০০ এমএএইচ ব্যাটারি। এতে ৪০ ওয়াটের তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকার কথাও বলা হয়েছে। বড় ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করলেও প্রকৃত ব্যাকআপ নির্ভর করবে ডিসপ্লে, প্রসেসর, নেটওয়ার্ক সংযোগ ও ব্যবহারের ধরনের ওপর।
প্রসেসরের ক্ষেত্রে স্টোরেজভেদে পার্থক্যের দাবি করা হয়েছে। প্রচারিত তথ্যে ১২৮ জিবি ও ২৫৬ জিবি সংস্করণে কিরিন ৮০২০এ এবং ৫১২ জিবি সংস্করণে কিরিন ৮০২০ চিপসেট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
ক্যামেরায় থাকতে পারে ৫০ মেগাপিক্সেলের পেছনের RYYB সেন্সর এবং ৮ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা। সম্ভাব্য রঙের তালিকায় রয়েছে ব্লু সি, গোল্ড স্যান্ড, অবসিডিয়ান ব্ল্যাক ও স্নোয়ি হোয়াইট।
কানেক্টিভিটি ও সফটওয়্যার
প্রচারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ফোন দুটিতে এনএফসি, ব্লুটুথ ৬.০, জিপিএস এবং ফাইভজি সংযোগ সুবিধা থাকতে পারে। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে হারমনি ওএস ৭.০-এর কথা বলা হয়েছে।
তবে সফটওয়্যার সংস্করণ, ব্লুটুথের নির্দিষ্ট মান এবং দুই মডেলের নেটওয়ার্ক সুবিধা সম্পর্কে হুয়াওয়ের আনুষ্ঠানিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বাজারে আসবে কি?
চীনের বাজারে বিক্রির পর ফোন দুটি আন্তর্জাতিক বাজারেও আসতে পারে বলে প্রচারিত তথ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে হুয়াওয়ে এখনো আন্তর্জাতিক উন্মোচনের সময়সূচি, বাজারভিত্তিক সংস্করণ কিংবা বাংলাদেশে বিক্রির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিয়েছে কি না, তা যাচাই করা দরকার।
ফোন দুটির সম্ভাব্য বড় ব্যাটারি, উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে ও নিজস্ব প্রসেসরের সমন্বয় বাজেট-সচেতন ক্রেতাদের আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন ও মূল্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে সম্ভাব্য তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।





















