বার্সেলোনায় চলমান ‘মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস ২০২৬’ (এমডব্লিউসি)-এর মঞ্চে নিজেদের তৈরি চোখ ধাঁধানো ডিজাইনের ফিউচারিস্টিক সুপারকারটি প্রদর্শন করে চীনা টেক জায়ান্টটি। প্রদর্শনীটি বিশ্ব অটোমোবাইল বাজারে শাওমির ক্রমবর্ধমান উচ্চাকাঙ্ক্ষারই এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকে। গাড়িটি উন্মোচনের জন্য এমডব্লিউসির মঞ্চ বেছে নিয়েছে কোম্পানিটি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ই প্রযুক্তি আসরটি শাওমিকে স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে হাই-পারফরম্যান্স ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) তৈরির সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি বৈশ্বিক সুযোগ করে দিয়েছে।
মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের মতো স্মার্টফোন ও টেলিকম নির্ভর আসরে আস্ত একটি গাড়ি দেখে অনেকের মনে কৌতূহল জাগতে পারে। তবে মোবাইল জগৎ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া শাওমির মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য এ মঞ্চটি মোটেও অমূলক নয়। বরং প্রযুক্তি ও যাতায়াত ব্যবস্থার মেলবন্ধনে শাওমির নতুন যাত্রা ইভেন্টটির গুরুত্বকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
শাওমির ‘ভিশন জিটি’ মূলত বিখ্যাত ‘গ্র্যান টুরিজমো’ কনসেপ্ট কার প্রোগ্রামের একটি বিশেষ অংশ। এ প্রোগ্রামের আওতায় বিশ্বের নামি সব ব্র্যান্ড অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তির গাড়ি ডিজাইন করে, যা একই সঙ্গে প্লে-স্টেশনের জনপ্রিয় রেসিং গেম ‘গ্র্যান টুরিজমো ৭’-এ দেখা যায়।
উল্লেখ্য, এ অভিজাত ক্লাবে প্রথম চীনা ব্র্যান্ড হিসেবে ডাক পেয়েছে শাওমি।
প্রত্যাশা অনুযায়ী, ভিশন জিটি হবে কোনো চীনা ব্র্যান্ডের প্রথম গাড়ি, যা প্লে-স্টেশন ৫-এর গ্র্যান টুরিজমো ৭ গেমে যুক্ত হতে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল এবং বাস্তব উভয় জগতেই গাড়ির উপস্থিতি নিশ্চিত করার কৌশলটি শাওমিকে বিশ্বজুড়ে রেসিং ও গেমিং প্রেমীদের আরো কাছাকাছি নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্মার্টফোনের বাজার মাতানোর পর এবার হাই-পারফরম্যান্স স্পোর্টস কারের দুনিয়ায় শাওমির এ পদচারণা প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেমিং অডিয়েন্সের সঙ্গে সংযোগ তৈরি শাওমির ব্র্যান্ড ভ্যালুকে বিশ্ববাজারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
গাড়িটির ভেতরে রয়েছে মিনিমালিস্ট বা ন্যূনতম সাজসজ্জার কেবিন। সেখানে যুক্ত করা হয়েছে বাটারফ্লাই-স্টাইল স্টিয়ারিং হুইল এবং প্যানোরামিক ডিসপ্লে।
শাওমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লেই জুন জানান, ২০২৭ সাল থেকে চীনের বাইরে বিশ্ববাজারে গাড়ি বিক্রি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারগুলোর জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এমনকি যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রিটেইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজও শুরু হয়েছে। লেই জুন নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ গাড়িটির বেশকিছু ছবি শেয়ার করে এর আগমনি বার্তা দিয়েছেন।





















