প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের প্রথম আট দিনেই দেশে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। রেমিট্যান্সের এই জোয়ারের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত (Surplus) দেখা দিয়েছে।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা করতে আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বাজার থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিন ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে।
ডলার কেনা ও বিনিময় হার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আজ ‘মাল্টিপল প্রাইস’ নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে এই ডলার কেনা সম্পন্ন হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২.৫১ বিলিয়ন) ডলার কিনেছে। গত ১৩ জুলাই থেকে এই প্রক্রিয়ায় ডলার কেনা শুরু করে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।
প্রবাসী আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী।
১-৮ ডিসেম্বর: এই ৮ দিনে দেশে এসেছে ১০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু ৮ ডিসেম্বরেই এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।
জুলাই-ডিসেম্বর (৮ তারিখ পর্যন্ত): চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। এই সময়ে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট কাটতে শুরু করেছে। ডলারের এই উদ্বৃত্ত পরিস্থিতি ধরে রাখতে পারলে আমদানি দায় মেটানো এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।






















