দেশীয় ‘গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম’ (জিডিএস) আইডি ব্যবহার করে বিদেশে বসে বিমানের টিকিট বিক্রি এবং সেই অর্থ দেশে না এনে অভিনব কায়দায় পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দেশের অন্যতম ট্রাভেল এজেন্সি ‘সায়মন ওভারসিজ লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসফিয়া জান্নাত সালেহর বিরুদ্ধে প্রায় ১৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
অভিযোগ উঠেছে, সায়মন ওভারসিজ অবৈধভাবে ‘ক্রস বর্ডার’ বা দেশের বাইরের টিকিট বিক্রি করে সেই টাকা বিদেশে রেখে দিচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যুক্ত হচ্ছে না। এ বিষয়ে গত সোমবার আসফিয়া জান্নাত সালেহর কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় সায়মন ওভারসিজের নামে বরাদ্দকৃত জিডিএস আইডি ও পাসওয়ার্ড অবৈধভাবে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন ও ইউরোপের বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আসফিয়া জান্নাত সালেহর কাছে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত সায়মন ওভারসিজ তাদের আইএটিএ (IATA) আইডি ব্যবহার করে বিদেশ থেকে মোট ১ হাজার ৮৯৪টি এয়ার টিকিট বিক্রি করেছে। এই টিকিটগুলোর আনুমানিক মূল্য অন্তত ১৬ কোটি টাকা। যাত্রীরা ওইসব দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছেন কিংবা তৃতীয় কোনো দেশে ভ্রমণ করেছেন, কিন্তু টিকিটের টাকা বাংলাদেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবেশ করেনি।
একাধিক ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী জানান, জিডিএস আইডি বাংলাদেশ থেকেই পরিচালনা করার নিয়ম। কিন্তু সায়মন ওভারসিজ তাদের আইডি বিদেশে ভাড়া দিয়ে বা শেয়ার করে এই অপকর্ম করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “এয়ারলাইন্সগুলো আইএটিএর মাধ্যমে পেমেন্ট পায়। কিন্তু টিকিট যখন বাংলাদেশের কোটায় বিক্রি হয় অথচ টাকাটা বিদেশে থেকে যায়, তখন সেটা সোজা কথায় হুন্ডি বা মানি লন্ডারিং। এতে রাষ্ট্র সরাসরি রাজস্ব ও রেমিট্যান্স বঞ্চিত হচ্ছে।”
অভিযুক্ত আসফিয়া জান্নাত সালেহ ট্রাভেল এজেন্টদের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব)-এর সাবেক মহাসচিব। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের আগস্ট মাসে মন্ত্রণালয় আটাবের সেই কমিটি বাতিল করে দেয়। আটাবের পদ হারিয়ে এবার নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় ধরনের অর্থ পাচারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠল তার বিরুদ্ধে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে। সায়মন ওভারসিজ লিমিটেডের এমডিকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রমাণ মিললে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলসহ মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হতে পারে।






















