দেশে মোবাইল ফোন শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সরকারের নেওয়া নতুন নীতিমালার বিরোধিতা করে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংসতা বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) এবং স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১০% করার সিদ্ধান্তকে সংশ্লিষ্ট বৈধ ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে কিছু অবৈধ মোবাইল ব্যবসায়ী এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। তারা বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল শোরুমগুলো জোরপূর্বক বন্ধ করে দিচ্ছে। এমনকি মব সৃষ্টি করে ভাঙচুর চালানোর ফলে স্থানীয় স্মার্টফোন উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিসিসিসিআই-এর তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি কারখানার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী মোবাইল শিল্প গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৪টি প্রতিষ্ঠানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগসহ ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ শতাংশই নারী শ্রমিক। এছাড়া সরকার এই খাত থেকে বছরে ২,০০০ কোটি টাকার বেশি ট্যাক্স ও ৪০০ কোটি টাকার ইউটিলিটি বিল পেয়ে থাকে।
বিসিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে পরিচালিত স্মার্টফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো মূলত শীর্ষস্থানীয় বিদেশি ব্র্যান্ড, যারা প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের (FDI) মাধ্যমে ব্যবসা করছে। এই অরাজকতা ও সহিংসতা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এতে বিনিয়োগকারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংগঠনটি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে এই নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে: ১. বিটিআরসি ও বৈধ দোকানে হামলাকারী দোষীদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ২. বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানাগুলোর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। ৩. বৈদেশিক বিনিয়োগের সুষম পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মুষ্টিমেয় কিছু অবৈধ ব্যবসায়ীর অরাজকতার কাছে দেশের সম্ভাবনাময় একটি শিল্প এবং কয়েক হাজার কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ জিম্মি হতে পারে না।






















