বছরের শুরু থেকেই চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে স্বর্ণের বাজার। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠার পর টানা বড় পতনও দেখা গেছে স্বর্ণের দামে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে গিয়ে দেশের বাজারে ইদানিং ১২ ঘণ্টাও টিকছে না নতুন দাম। রাতে এক দাম নির্ধারণের পর আবার দিনের প্রথম ভাগেই দাম পরিবর্তন করে ফেলছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বাজুস)।
সবশেষ রোববারও (১ ফেব্রুয়ারি) দেখা গেছে এ প্রবণতা। এদিন সকাল ১১টার দিকে দাম ভরিতে এক লাফে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়ানোর পর আবার রাতে সাড়ে ৯টার দিকে আবার ভরি প্রতি ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এতে শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারে ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত এ দামেই বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ।
যদিও বাজুস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে; তবে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঘন ঘন উত্থান-পতনই দেশের বাজারে এখন ঘন ঘন দাম পরিবর্তনের কারণ।
সবশেষ দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ২০ বারের মতো সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৬ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।





















