যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ খাতে এ সপ্তাহে শতভাগ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল আপাতত ছাড় পাচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা সাময়িক স্বস্তি পেলেও খাতটির অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহকারীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাপলের মতো শক্তিশালী লবিং ক্ষমতা বা যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা গড়ার সামর্থ্য না থাকায় অনেক কোম্পানিকেই এখন এ শুল্কের মুখে পড়তে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টরসহ নয়টি খাতে সেক্টরভিত্তিক শুল্ক আরোপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। গাড়ি, ইস্পাত, ওষুধ, ড্রোনসহ বিভিন্ন খাতে শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। তবে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হচ্ছে। আধুনিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চিপের গুরুত্ব বেশি হওয়ায় এ খাতে শুল্কের সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, চিপ খাতে শুল্কহার হবে প্রায় শতভাগ। তবে যারা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলছে, তাদের ক্ষেত্রে এ শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। এক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে অ্যাপলের কথা উল্লেখ করেন। কারণ প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বিনিয়োগ বাড়িয়ে ৬০০ বিলিয়ন বা ৬০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ইউবিএসের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রযুক্তি গবেষণার প্রধান নিকোলাস গুডোয়া বলেন, ‘শুধু অ্যাপল নয়, সব প্রতিষ্ঠানকেই যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বিনিয়োগ ও সরবরাহ চেইনে বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে হবে। যারা তা দেখাতে পারবেন না, তাদের শতভাগ শুল্ক দিতে হবে।’
জাপানের একটি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী জানান, শতভাগ শুল্কের বিষয়টি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এ খাতের শতশত ক্ষুদ্র সরবরাহকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সামর্থ্য নেই।
তিনি বলেন, ‘জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো সাধারণত ইস্পাত ও জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগ করে, সেমিকন্ডাক্টরে নয়। যদিও টোকিও এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অংশ হিসেবে ৫৫০ বিলিয়ন বা ৫৫ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
শিল্পসংশ্লিষ্ট নির্বাহী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এতটাই অস্পষ্ট ও বিশৃঙ্খল যে, কোন কোন কোম্পানিকে ছাড় দেয়া হবে তা অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অ্যাপল ছাড়া অন্য নির্মাতাদের জন্য শুল্কনীতি এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।






















