দেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের (এসসিবি) ডিজিটাল সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকটির ওটিপি (ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড) সিস্টেমে ত্রুটি এবং মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন—বিকাশে টাকা স্থানান্তর সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক।
এই সেবা বিড়ম্বনার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাজারে । এইচএসবিসির মতো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডও ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তাদের রিটেইল বা খুচরা ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের অনুগত গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন, তাদের ওটিপি পেতে সমস্যা হচ্ছে। কেউ কেউ সন্দেহ করছেন, সিস্টেমটি হ্যাকের শিকার হয়েছে। তবে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বীকার না করে অস্পষ্ট বার্তা দেওয়ায় গ্রাহকদের ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
এম আসিফ রহমান অভিযোগ করেছেন যে, ব্যাংকের ওটিপি সিস্টেমে কোনো ধরনের হ্যাকের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার না করে ভুল তথ্য দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাংক প্রথমে এসএমএস পাঠিয়ে জানায় সব ঠিক আছে, কিন্তু পরে দেখা যায় বিকাশ বা এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) ট্রান্সফার বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রাহকের প্রতি এই ধরনের আচরণ অসম্মানজনক বলে তিনি মনে করেন।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষক এবং ব্যাংকটির একজন দীর্ঘদিনের প্রিমিয়াম গ্রাহক সাইফুল রহমান বলেন, এই সমস্যার মূল কারণ আরও গভীরে। তার মতে, “তারা অনেক আগেই বাংলাদেশি খুচরা গ্রাহকদের ওপর মনোযোগ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশে তাদের কোনো নিবেদিতপ্রাণ প্রযুক্তিগত দল নেই—তারা সম্পূর্ণরূপে তাদের ভারতীয় দলের ওপর নির্ভর করে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এর ফলে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে তাদের অ্যাপ এবং ওয়েব প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে। এগুলি খুবই জটিল সমস্যা, কিন্তু তারা কখনও বাংলাদেশি ব্যবহারকারীর দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় রেখে কিছু তৈরি করেনি। হ্যাঁ, তারা প্রায় ১০০০ কোটি টাকা লাভ করে, কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো ব্যাংকের জন্য, এটা আসলে খুব একটা বড় সংখ্যা নয়। আমার মনে হয় না তাদের বেশিরভাগ রাজস্ব খুচরা ব্যাংকিং থেকে আসে—সম্ভবত কর্পোরেট এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্লায়েন্টদের কাছ থেকেই বেশি আসে।”
সাইফুল রহমানের এই বিশ্লেষণ খুচরা ব্যাংকিং ব্যবসা বন্ধের গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে। এর আগে, আরেক আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি (HSBC) বাংলাদেশে তাদের রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করে দিয়েছিল। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডও সেই পথে হাঁটলে গ্রাহকরা উন্নত ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা দেশের ব্যাংকিং খাতের সার্বিক চিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় বাজারের প্রতি মনোযোগ না দেওয়া এবং প্রযুক্তিগত দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর প্রতিও গ্রাহকদের আস্থা কমে আসবে, যা গ্রাহকদের জন্য উন্নত ব্যাংকিং সেবা পাওয়া আরও কঠিন করে তুলবে।





















