সম্প্রতি মিডিয়ায় আলোচিত ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে ওটিপি (OTP) জেনারেট না হওয়া সত্ত্বেও ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগের পর, ব্যাংকটি জানিয়েছে যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিয়েছে এবং মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এ ‘অ্যাড মানি’ ফিচারটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
আজ শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের শুরুতে গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ড থেকে欺诈মূলক (জালিয়াতিমূলক) লেনদেনের অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সুরক্ষিত রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
তদন্ত শুরু: বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল ইতোমধ্যে ব্যাংকের প্রক্রিয়া ও সিস্টেম পর্যালোচনা করতে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের অফিস পরিদর্শন করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত: জালিয়াতির বিষয়টি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে।
অর্থ ফেরত: গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধা লাঘব করতে, ব্যাংক ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের খোয়া যাওয়া সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে।
‘অ্যাড মানি’ ফিচার স্থগিত: গ্রাহকদের বাহ্যিক হুমকি থেকে রক্ষা করতে, ব্যাংক তাদের অ্যাপ বা অনলাইন ব্যাংকিং থেকে এমএফএস-এ টাকা যোগ করার (‘অ্যাড মানি’) ফিচারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ও পদ্ধতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তাদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং পোর্টাল এবং এসসি মোবাইল অ্যাপ নিরাপদ ও সুরক্ষিত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। হাসিন হায়দারসহ বেশ কিছু গ্রাহক ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
নাসের এজাজ বিজয় বলেন, “আমরা নিয়ন্ত্রক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করে এই সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১২০ বছরের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে আমরা আমাদের গ্রাহকদের পাশেই থাকব এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”






















