সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বহু ভিসা ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘বিকাশ অ্যাড মানি’ সুবিধার মাধ্যমে প্রতারণামূলকভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের কার্ড থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে উধাও হয়ে যায়। এই ঘটনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানালেও, ভুক্তভোগীরা বলছেন এটি পূর্ণাঙ্গ ‘রিফান্ড’ নয়, বরং একটি ‘লকড ক্রেডিট’ যা তারা এখনও ব্যবহার করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক, যাদের মধ্যে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেছেন, তিনি জানিয়েছেন, প্রতারণামূলক লেনদেনের অভিযোগ জানানোর পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত ওই ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। এর সাথে লেনদেন সম্পর্কিত ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জও পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের মাসিক বিল পরিশোধের বোঝা থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলেছে এবং কোনো লেট ফি আরোপ করা হচ্ছে না।
তবে গ্রাহকদের মূল অভিযোগ হলো, ফেরত আসা এই অর্থ তাদের ক্রেডিট লিমিটে ‘লকড’ বা ‘অস্থায়ী ক্রেডিট’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অর্থাৎ, ব্যাংকের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না, যা কার্যত তাদের ক্রেডিট লিমিটকে সংকুচিত করে রেখেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, “ব্যাংকের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রিফান্ড’ বলা হলেও, এটি আসলে ভুল। টাকাটা এখনও আমাদের ব্যবহারের অযোগ্য, যা এক ধরনের সীমাবদ্ধতা।”
বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে এবং লিঙ্কড-ইনে একাধিক পোস্ট হওয়ার পর টনক নড়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের হেড অফ ক্লায়েন্ট রিলেশনশিপ এবং ব্যাংকের এমডি (ম্যানেজিং ডিরেক্টর) লুৎফুল হাবিব নিজে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তারা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা অত্যন্ত আন্তরিক এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।
তবে গ্রাহকদের মতে, এই আন্তরিকতা ও সচেতনতা প্রতারণার অভিযোগ জানানোর প্রাথমিক পর্যায় থেকেই দেখানো উচিত ছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার বিভাগ থেকে প্রথমে তারা আশানুরূপ সাড়া পাননি। তাদের মতে, ব্যাংকের যোগাযোগ ও গ্রাহকসেবা বিভাগে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
এই ঘটনায় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রাহকরা আশা করছেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শেষ করে তাদের ‘লকড’ ক্রেডিটকে সম্পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য করে দেবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।






















