ডিজিটাল কারেন্সির উত্থানকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে লেনদেন আরো সহজ করার লক্ষ্য নিয়েছে পেমেন্ট মেসেজিং নেটওয়ার্ক সুইফট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিগগিরই নিজস্ব ব্লকচেইন আনতে যাচ্ছে সংস্থাটি। মূলত স্টেবলকয়েন শিল্পের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী লেনদেন আরো দ্রুত ও সহজ বলে আশা করছে সুইফট।
ব্লকচেইন হলো এক ধরনের ডিজিটাল খাতা বা লেজার, যেখানে লেনদেন বা তথ্য ব্লকের মধ্যে জমা থাকে, প্রতিটি ব্লক আগেরটার সঙ্গে চেইনের মতো যুক্ত থাকে। বিকেন্দ্রীকৃত এ ব্যবস্থা ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার হয়।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ব্যাংক অব আমেরিকা, সিটিগ্রুপ ও ন্যাটওয়েস্টসহ কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে মিলে একটি যৌথ ডিজিটাল লেজার তৈরির ঘোষণা দিয়েছে সুইফট। এর মাধ্যমে স্টেবলকয়েনসহ টোকেনভিত্তিক পণ্যের লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।
আর্থিক খাতের মেসেজিং নেটওয়ার্কটি বলছে, এ পদক্ষেপ আন্তঃসীমান্ত লেনদেন উন্নত করবে। লেনদেন রেকর্ড, সিকোয়েন্স ও তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি স্মার্ট কনট্র্যাক্টের মাধ্যমে নিয়ম মেনে কাজ করতে সক্ষম হবে নতুন ব্লকচেইন।
এমন সময় সুইফটের উদ্যোগটি আসছে যখন মূলধারার ব্যাংক ও পেমেন্ট গ্রুপগুলোর সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। বর্তমানে স্টেবলকয়েন শিল্পের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে শীর্ষ ইস্যুকারী কোম্পানি হিসেবে আধিপত্য করছে টেথার ও সার্কেল। বিষয়টি সুইফটের মতো পেমেন্ট গ্রুপগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ স্টেবলকয়েন ব্যবহারকারীরা মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি অর্থ স্থানান্তর করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্র গত জুলাইয়ে স্টেবলকয়েন শিল্প নিয়ন্ত্রণে একটি আইন পাস করেছে, যাতে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এর পর পরই জেপি মরগান চেজ ও সিটিগ্রুপের মতো ব্যাংকগুলো ডলারভিত্তিক নিজস্ব টোকেন চালুর উদ্যোগ নেয়।
গত সপ্তাহে ইউনিক্রেডিট, আইএনজি ও ড্যানস্কে ব্যাংকসহ নয়টি ইউরোপীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) যৌথভাবে ইউরোভিত্তিক স্টেবলকয়েন চালুর ঘোষণা দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো ডলারভিত্তিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং নিজেদের লেনদেনের জন্য টোকেন ব্যবহার করা।
বেলজিয়ামভিত্তিক সুইফট একটি সমবায়ী গ্রুপ হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ১১ হাজার ৫০০টির বেশি ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত লেনদেন করে থাকে। সংস্থাটি নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে বলছে, ব্লকচেইনের মাধ্যমে অভূতপূর্ব পরিসরে তাৎক্ষণিক ও সবসময় সক্রিয় আন্তঃসীমান্ত লেনদেন সম্ভব হবে।
লেজারের প্রটোটাইপ তৈরি করতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি কোম্পানি কনসেনসিসের যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে সুইফট। এরপর বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে এ লেজার ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে ঠিক হবে প্রথম পর্যায়ে লেনদেনের আওতায় আসবে কোন কোন মুদ্রা ও কোন কোন দেশ। কনসেনসিসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জোসেফ লুবিন। ক্রিপ্টো শিল্পের অন্যতম এ পথিকৃৎ ইথেরিয়ামের সহপ্রতিষ্ঠাতা।
গত সপ্তাহেই সুইফট জানিয়েছিল, পেমেন্ট ফি উন্নত করার উদ্যোগ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর লক্ষ্য হলো খুচরা লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্য ও সময় সম্পর্কে পূর্ণ পূর্বাভাস, কোনো গোপন চার্জ ছাড়া পুরো অর্থ হস্তান্তর ও তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।
ব্যবস্থাপনাবিষয়ক পরামর্শক সংস্থা ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির এক প্রতিবেদন অনুসারে, প্রচলিত বৈশ্বিক পেমেন্ট ব্যবস্থার জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে স্টেবলকয়েন। কারণ প্রচলিত ব্যবস্থায় সুইফটের মাধ্যমে একটি লেনদেন সম্পন্ন হতে পাঁচদিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতে একাধিক মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন হয়। এছাড়া অর্থ পাচারবিরোধী ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক গ্রাহক যাচাই প্রক্রিয়া সাধারণত ম্যানুয়াল বা আংশিক স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়ে থাকে, যা সময়সাপেক্ষ ও জটিল বিষয়।





















