বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে বেসরকারি খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি এখন ১ হাজার ৬৪০ কোটি টাকার বিশাল মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, গত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিপুল পরিমাণ ঋণ ব্যাংক থেকে বের করে নেওয়া হয়েছিল। এসব ঋণ খেলাপি হলেও সে সময় রাজনৈতিক চাপে বা বিশেষ সুবিধায় তা আড়াল করে রাখা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকগুলোকে লুকানো খেলাপি ঋণ প্রকাশে বাধ্য করায় এখন থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং তার বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখতে পারছে না, যা দেশের পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ম-নীতি না মেনে ঋণ বিতরণ করায় ব্যাংক খাতে লাগামহীনভাবে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়লে তার বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে সমপরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়, যা সরাসরি ব্যাংকের মুনাফা থেকে কেটে রাখা হয়। এতেই ব্যাংকগুলো বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়ছে।
তাদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী চক্র বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল। এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করে রেখেছিল। সেইসব ঋণই এখন খেলাপি হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এই সংখ্যা আগামীতে আরও প্রকট হবে। এতে ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানের সক্ষমতা হারাবে। মূলধন ঘাটতি যত বাড়তে থাকবে, সাধারণ আমানতকারীদের আমানতের ঝুঁকিও তত বাড়বে।






















