দেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের মিছিলে যোগ হলো আরেকটি নাম। ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ এবং ‘ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল’-এর কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ‘ট্র্যাভেল বিজনেস পোর্টাল’ নামে একটি অনলাইন ট্র্যাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আনুমানিক শত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের অভিযোগ, এই প্ল্যাটফর্মটি এয়ার টিকেট এবং ট্যুর প্যাকেজের ওপর অবিশ্বাস্য ছাড় দিয়ে বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অগ্রিম সংগ্রহ করে। গত সপ্তাহ থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সন্দেহজনক মনে হলেও সোমবার থেকে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ এবং প্রধান কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
যেভাবে ঘটলো প্রতারণা:
জানা গেছে, ‘ট্র্যাভেল বিজনেস পোর্টাল’ মূলত বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) এবং বিজনেস-টু-কাস্টমার (B2C) উভয় মডেলেই ব্যবসা পরিচালনা করতো। তারা দেশের শত শত ছোট ট্র্যাভেল এজেন্সিকে একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দিতো এবং একইসাথে সরাসরি গ্রাহকদের কাছেও আকর্ষণীয় ছাড়ে টিকেট ও প্যাকেজ বিক্রি করতো।
অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ” অবিশ্বাস্য কম মূল্যে” টিকেট বিক্রির অফার দেয়। এই অফারে প্রলুব্ধ হয়ে বহু গ্রাহক এবং সাব-এজেন্ট লাখ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন।
অফিস বন্ধ, মালিকেরা লাপাত্তা:
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, গত রোববার রাত থেকে পোর্টালটির ওয়েবসাইট (travelbusinessportal.com) হঠাৎ করেই ডাউন হয়ে যায়। সোমবার সকালে ঢাকার প্রগতি সরণিতে অবস্থিত তাদের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টরা দেখেন সেটি তালাবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী সাব-এজেন্ট বলেন, “আমাদের প্রায় ৩০ লাখ টাকা তাদের পোর্টালে জমা ছিল। সামনে গ্রাহকদের টিকেটের জন্য সেই টাকা দিয়ে ফ্লাইট ইস্যু করার কথা। এখন আমাদের সব শেষ। আমরা গ্রাহকদের কী জবাব দেব জানি না।”
একই পথে তিন প্রতিষ্ঠান:
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ফ্লাইট এক্সপার্ট, ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল এবং সবশেষে ট্র্যাভেল বিজনেস পোর্টালের এই পতন পুরো ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিকে এক ভয়াবহ আস্থার সংকটে ফেলে দিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতারণার ধরণ প্রায় এক—অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে টিকেট বিক্রি করে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া।
ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন আটাব (ATAB)-এর এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বারবার একই ঘটনা ঘটছে। আমরা এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বললেও কোনো লাভ হয়নি। কিছু অসাধু চক্রের কারণে পুরো ব্যবসায়ের ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।”
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এই ঘটনার জন্য দুর্বল ব্যবস্থা এবং ওটিএ প্ল্যাটফর্মগুলোর অনৈতিক ব্যবসায়িক মডেলকে দায়ী করছেন। গ্রাহকের শত কোটি টাকা নিয়ে এই চক্রটি ইতোমধ্যে দেশত্যাগ করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





















