বাংলাদেশ ব্যাংকের মতোই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) স্বায়ত্তশাসন থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক যদি স্বায়ত্তশাসন পায়, তবে বিএসইসিও সেই সুযোগ পাবে।”
বুধবার (২২ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজার অংশীজনদের সঙ্গে কমিশনের চতুর্থ মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সভায় অংশ নেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিনসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
সভায় পুঁজিবাজার সংস্কারে গৃহীত উদ্যোগের অগ্রগতি, নতুন বিধিমালা বাস্তবায়ন, সার্ভেইল্যান্স আধুনিকায়ন, বাজার কাঠামো উন্নয়ন, সেটেলমেন্ট সময় হ্রাস, রেকর্ড ডেটে ট্রানজেকশন, স্ক্রিপ্ট নেটিং চালু, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ও ফিউচারস মার্কেট চালু, সাইবার নিরাপত্তা এবং এপিআই কানেকটিভিটি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।
ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সততা চর্চা করতে হবে, সামষ্টিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পুঁজিবাজার নিয়ে হতাশ হলে চলবে না— সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাস্তব অবস্থা বুঝে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং গুজব ছড়াতে দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো বিএসইসি’রও স্বায়ত্তশাসন দরকার। আর বাংলাদেশ ব্যাংক স্বায়ত্তশাসন পেলে বিএসইসিও পাবে।” এসময় তিনি সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) রেজিস্ট্রেশন ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করে দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেন।
সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নে কমিশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। মার্জিন বিধিমালা ২০২৫, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫ এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস ২০২৫ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দ্রুতই এগুলো কার্যকর হবে, যার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের আইনি সংস্কারের বড় অংশ সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, “মার্জিন বিধিমালা গেজেটে প্রকাশের পর কার্যকর হবে, তবে আতঙ্কের কিছু নেই। এটি বাস্তবায়নের আগে বাজার সংশ্লিষ্টদের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে পরিমার্জন করা হয়েছে। প্রয়োজনে কার্যকরের পরও ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা যাবে।”
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, কমিশন বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষায় ও বাজার স্থিতিশীলতায় অঙ্গীকারবদ্ধ। অংশীজনদের মতামত, প্রস্তাবনা ও বিশ্লেষণ পুঁজিবাজার সংস্কারের কাজে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চেয়ারম্যান মো. মোমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক নাবিল জসিম আহমদ, সিডিবিএল’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব, বিএমবিএ’র সভাপতি মাজেদা খাতুনসহ পুঁজিবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।
সভা শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান অংশীজনদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “পুঁজিবাজারের সংস্কার বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে বাজারে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”





















