দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেনেটা পিএলসি কনভার্টেবল প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সফলভাবে ৩২৫ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ সম্পন্ন করেছে। এই সংগৃহীত অর্থ কোম্পানির উচ্চসুদযুক্ত ঋণ পরিশোধের কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত জুলাই মাসে রেনেটাকে এই প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন দেয়। অনুমোদনের পর গত ১৯ অক্টোবর এই শেয়ারের সম্পূর্ণ সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন হয়।
রেনেটা জানিয়েছে, মোট ৩২৫ কোটি টাকার প্রেফারেন্স শেয়ারের মধ্যে ৩০৩ কোটি টাকা সাবস্ক্রাইব করেছেন কোম্পানির ৫২৫ জন বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার। তারা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম (ইএসএস) এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। বাকি ২২ কোটি টাকা প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই প্রেফারেন্স শেয়ারগুলোর মেয়াদ হবে ছয় বছর। তৃতীয় বছর শেষ হওয়ার পর থেকে শেয়ারগুলো ধীরে ধীরে রেনেটার সাধারণ (ইকুইটি) শেয়ারে রূপান্তর শুরু হবে। প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে মোট চার ধাপে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যেখানে প্রতি শেয়ারের রূপান্তরমূল্য (কনভার্সন প্রাইস) নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭৫ টাকা।
বিএসইসি’র অনুমোদন অনুযায়ী, এই আর্থিক উপকরণটি পুঁজিবাজারের বিকল্প ট্রেডিং বোর্ডে (Alternative Trading Board – ATB) তালিকাভুক্ত হবে। এই পুরো ইস্যুটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড।
উল্লেখ্য, রেনেটার সর্বশেষ (২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত) তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ২২৪ কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি এবং ৬৭৫ কোটি টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। আগের বছর একই সময়ে (মার্চ ২০২৪) কোম্পানিটির স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। মূলত এই উচ্চসুদের ঋণের বোঝা কমাতেই প্রতিষ্ঠানটি মূলধন সংগ্রহের এই পথে হেঁটেছে।






















