বিশ্বজুড়ে অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রাক্কল অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বজুড়ে অনলাইন ক্রেতার সংখ্যা প্রায় ৩০০ কোটিতে পৌঁছেছে। অ্যামাজন বিক্রেতাদের জন্য তৈরি গবেষণা ও ডাটা বিশ্লেষণ টুল এএমজেডস্কাউটের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত কয়েক বছর মানুষের কেনাকাটার ধরন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে ইন্টারনেট। বর্তমানে প্রায় সব ধরনের পণ্যই অনলাইনে কেনা যায়। সফটওয়্যার থেকে শুরু করে পোশাক, যন্ত্রপাতি, এমনকি খাবারও এখন মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই বাসায় হাজির হচ্ছে। এ সহজলভ্যতাই ই-কমার্সকে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত করেছে। ফলে আগামী কয়েক দশকে বাণিজ্য খাতে অনলাইন কেনাকাটাই প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ২০৪০ সালের মধ্যে মোট পণ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেনা হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইনস্টাপেজ।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক খুচরা বিক্রির প্রায় ২০ শতাংশই এসেছে অনলাইন কেনাকাটা থেকে। আগামী দিনে এ হিস্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনলাইন রিসোর্স ও ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন ২৭১ কোটি মানুষ, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার বিচারে ৩৩ শতাংশ। ওই সময় প্লাটফর্মটি জানায়, ২০২৫ সালে অনলাইন ক্রেতার সংখ্যা ২৭৭ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ডিমান্ডসেইজের তথ্যানুযায়ী, অনলাইনে কেনাকাটার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে চীন। দেশটির ৯১ কোটি ৫১ লাখ মানুষ কেনাকাটার জন্য অনলাইন মাধ্যম বেছে নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিজিক্যাল স্টোরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হারে বাড়ছে অনলাইন স্টোর। ফলে ই-কমার্স বিশ্বব্যাপী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরো লাভজনক বিকল্প হয়ে উঠছে। ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬৮৫টি নতুন ই-কমার্স সাইট চালু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এসব ই-কমার্স সাইটের অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের। এ বাজারে দেশটিতে শীর্ষে আছে জনপ্রিয় ই-কমার্স পরিষেবা অ্যামাজন।
প্রতিবেদন আরো বলছে, বিশ্বব্যাপী ই-কমার্সে সবচেয়ে বেশি আয় করা পণ্য বিভাগগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইলেকট্রনিকস খাত। এরপর রয়েছে ফ্যাশন ও খাদ্যপণ্য।
শুধু ওয়েবসাইট বা শপিং অ্যাপ নয়, অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের সুপারিশের ওপর ভোক্তাদের আস্থা বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ ভোক্তা ইনফ্লুয়েন্সারদের পণ্যসংক্রান্ত পরামর্শকে বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি বিশ্বের ৪১ শতাংশ ভোক্তা প্রথমবার কোনো পণ্যের খোঁজ পেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে কেনাকাটার ঝক্কি কমাতে মানুষ এখন অনেক বেশি অ্যাপ বা অনলাইন প্লাটফর্মনির্ভর। তবে জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ালেও ভার্চুয়াল কেনাকাটায় নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো বড় একটি দুশ্চিন্তার কারণ। অনলাইন শপিং অভিজ্ঞতাকে নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তিবিদরা কিছু পরামর্শ দেন, যেমন অপ্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার না করা এবং পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধের সুবিধাটি নিশ্চিত করা। এছাড়া কেনাকাটার আগে ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজটির বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। পেজের রিভিউ, কাস্টমার ফিডব্যাক ও কতদিন ধরে তারা ব্যবসা করছে, তা দেখে কেনাকাটা করা বুদ্ধিমানের কাজ।






















