দেশের অন্যতম পোশাকের ব্র্যান্ড ‘সারা লাইফস্টাইল’-এর বিরুদ্ধে গ্রাহক ঠকানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নতুন এবং নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক বিক্রির প্রচারণা করলেও প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিদেশি ব্র্যান্ডের অবিক্রিত বা বাতিলকৃত পণ্য (স্টকলট) ট্যাগ লাগিয়ে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্রেতারা বলছেন, রপ্তানি না হওয়া বা স্টকলট পণ্যগুলো গ্রাহককে অন্ধকারে রেখে ‘সারা’র লোগো লাগিয়ে বিক্রি করছে লাইফস্টাইল প্রতিষ্ঠানটি। ক্রেতারা ব্র্যান্ডটির এমন ‘ব্যবসায়িক নৈতিকতার পরিপন্থী’ বলে মনে করা হচ্ছে।
সারা পণ্য কিনে ঠকেছেন এমন গ্রাহকরা বলছেন, সাধারণত ফুটপাতে বা ছোট দোকানে যে স্টকলট পোশাক কম দামে পাওয়া যায়, সেই একই পণ্য সারা’র শোরুমে ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’র দোহাই দিয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এটি সরাসরি গ্রাহকের পকেট কাটার শামিল। সেই সঙ্গে প্রতারণাও।
এদিকে আব্দুর রউফ নামে এক গ্রাহক গত ঈদে ফরমাল শার্ট-প্যান্ট কিনেন। কিছুদিন পরেই ওই প্যান্ট শার্ট পরে আর অফিসে যেতে পারেননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি একটি ফরমাল শার্ট-প্যান্ট কিনেছিলাম। কিছুদিন পরেই দেখি ঘাড়ের কাছে কলার ছেঁড়া।
তিনি আরও বলেন, ব্লু কালারের প্যান্ট দুইবার ধোয়ার পরেই সাদা (ফেইথ) হয়ে গেছে। তারা সাশ্রয়ী বলছে কিন্তু সারা পোশাক মোটেই সাশ্রয়ী নয়, বরং নিউ মার্কেটের দোকাগুলোতে এরচেয়ে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়।
দীপান্বিতা নামে এক ক্রেতা বলেন, চার হাজার টাকা দিয়ে একটা থ্রি-পিচ নিয়েছিলাম, কয়েকবার পরার পরেই আর পরতে পারেনি। এত লো কোয়ালিটির কাপড়- বলার মতো না।
বাংলাদেশের উদীয়মান ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে, সেখানে সারার মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানের এমন কান্ড সাধারণ মানুষের মনে দেশি ব্র্যান্ড সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে।
এদিকে সারা লাইফস্টাইরের অনলাইন সার্ভিস নিয়ে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন ক্রেতারা। অর্ডার করে পণ্য পাওয়া তো দূরের কথা, গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে অন্তহীন ভোগান্তি। যার প্রমাণ মেলে সারার ফেসবুক পেইজের কমেন্ট বক্সেও। তবে সারা লাইফস্টাইলের ফেসবুক পেজে অভিযোগ করে কমেন্ট করলে দ্রুত কমেন্টস বক্স ফিল্টার করা হয়।
একজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ‘কারোরই অনলাইনে সারা’র পণ্য কেনা উচিত নয়। তাদের সার্ভিস লেভেল এতটাই নিচু মানের যে, এক সিজনের অর্ডার আরেক সিজনে পৌঁছায়।’
শওকত পারভেজ নামে অপর এক ক্রেতা জানান, তিনি অনলাইনে পণ্য কিনে বিকাশে টাকা দেন, কিন্তু ২-৩ দিনের কথা বলে ৬ দিন পার হলেও তিনি প্রোডাক্ট পাননি।
ক্রেতারা সারা’র প্রিমিয়াম সার্ভিস এবং মানসম্মত পোশাকের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু নামী ব্র্যান্ডের লেবেলের ওপর নিজেদের স্টিকার বসিয়ে পণ্য বিক্রি করার এই কৌশলটি গ্রাহকদের সাথে এক ধরণের প্রতারণা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। এটি কেবল ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তিই নষ্ট করছে না, বরং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সততাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা।






















