ই-কমার্স খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচন বহুল প্রত্যাশিত। আগস্ট পরবর্তী ই-ক্যাব সদস্যরা দ্রুত নির্বাচন দাবী করে আসছেন। কিন্তু সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠী ই-ক্যাব এর নির্বাচন
বন্ধ করতে সক্রিয় ভূমিকা পালনে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন হলে তাদের আধিপত্য থাকবেনা-সেই ভয়ে তারা এখন নির্বাচন ঠেকাতে উঠেপড়ে লেগেছে।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পর স্বৈরাচার পতনের পরপরই নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন উপায়ে ই-ক্যাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। প্রথমে সহায়ক কমিটির মাধ্যমে ই-ক্যাব চালানো এবং নির্বাচন ছাড়া সহায়ক কমিটি দিয়েই লম্বা সময় ই-ক্যাব চালানোর চেষ্টা করেছেন ওই গ্রুপটি। সাধারণ সদস্যদের চেষ্টায় তাদের এই পরিকল্পনা সফল হয়নি এবং প্রশাসকের দৃঢ়তায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। এরপর থেকেই ওই চক্রটি বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক তদবির, হুমকি ধামকি দিয়ে নির্বাচন পেছানো ও স্থগিতের চেষ্টা করে আসছে।
দ্রুত নির্বাচন চাওয়া সদস্যদের বড় একটি গ্রুপ অভিযোগ করছে এই সবের পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বিপুর ক্যাশিয়ার ক্ষ্যাত খাইরুল করিম অন্তুর বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে এই ক্ষেত্রে আরও রয়েছেন ই-ক্যাবের সদস্য, বেসিসের সাবেক পরিচালক ও ই-কুরিয়ার এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিপ্লব ঘোষ রাহুল। জুলাই বিপ্লবে মোহাম্মদপুর এলাকায় হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগে বিপ্লব ঘোষের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা রয়েছে। শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, ফজলে নূর তাপস, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মামলার আসামীদের মধ্যে অন্যতম বিপ্লব ঘোষ।
বিপ্লব ঘোষ রাহুল ছাড়াও ই-ক্যাবের নির্বাচনের বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের আরেক সুবিধাভোগী সোহেল মৃধার বিরুদ্ধে। এই সোহেল মৃধা ই-ক্যাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট শমী কায়সারসহ কমিটির অনেকেরই আস্থাভাজন ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লোক বলেও পরিচিত।
ই-ক্যাবের সাধারণ সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যারা বছরের পর বছর ই-ক্যাবকে নিজেদের সম্পত্তির মতো ব্যবহার করেছেন, তারা আজ ভোটের ভয়ে আতঙ্কিত। তাই তারা নির্বাচন স্থগিত বা পেছানোর চেষ্টা করছেন। তাই ই-ক্যাবের সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ না থেকে কাদা ছোড়াছুড়ি করলে এই সেক্টর এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা একেবারে ধ্বংস হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে ই-ক্যাবের প্রশাসক সাঈদ আলী ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ই-ক্যাব কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই নির্বাচন সঠিক সময়ে হতেই হবে। সঠিক সময়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকলে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এইসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিপ্লব ঘোষ রাহুল বলেন, আমি এগুলোর মধ্যেই নেই। আমি তো ভোট দেওয়ার জন্যই ভোটার হয়েছি। কিন্তু নির্বাচন অংশগ্রহণ করছি না, করার ইচ্ছাও নেই। আমার বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।






















