দেশের অনলাইন ব্যবসার প্রসারে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো অপরিহার্য হলেও, সম্প্রতি তাদের চরম অব্যবস্থাপনা অনলাইন আমের বাজারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার (Steadfast Courier)-এর বিরুদ্ধে শত শত উদ্যোক্তা আম পরিবহনে গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ এনেছেন, যার ফলে কোটি কোটি টাকার আম পচে নষ্ট হচ্ছে এবং বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনায় উদ্যোক্তাদের তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু: আম পরিবহনে অব্যবস্থাপনা
চলতি আম মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো থেকে অনলাইনে বিক্রি হওয়া আম ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে গিয়ে কুরিয়ার সার্ভিস, বিশেষ করে স্টেডফাস্টের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
- মারাত্মক ডেলিভারি বিলম্ব: উদ্যোক্তারা বলছেন, কুরিয়ারে বুকিং দেওয়ার পর আম পৌঁছাতে ৭-১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে, যা পচনশীল পণ্যের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণে ক্রেতার হাতে পৌঁছানোর আগেই বেশিরভাগ আম ক্যারেটের মধ্যেই পচে যাচ্ছে।
- পণ্যের সুরক্ষা অভাব: টানা বৃষ্টির মধ্যে আম পরিবহনে কুরিয়ারগুলো কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়নি। ফলস্বরূপ, বহু ক্যারেট আম রাস্তায় ভিজে পচে গেছে, যা উদ্যোক্তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
- আর্থিক ও ব্যবসায়িক বিপর্যয়: ‘ঘরপণ্য’ নামের একটি ফেসবুক পেজের স্বত্বাধিকারী অলিউল আরিফিন দোলন জানান, তাদের ৭০ ক্যারেট আমের মধ্যে ১৮ ক্যারেট বৃষ্টিতে ভিজে পচে যাওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। ‘বীরবল’ অনলাইন পেজের স্বত্বাধিকারী রিমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছরও স্টেডফাস্টের অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের ৫০০ পার্সেল হারিয়েছিল, যার কোনো সমাধান তারা পাননি।
- ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার হতাশা: অনেক উদ্যোক্তা, যেমন উজ্জল হোসেন, যার ১৮৮ কেজি আম ডেডলাইন পার হওয়ার পরেও কোথাও ডেলিভারি হয়নি, তিনি প্রায় ১৮ হাজার ১৪৩ টাকা লোকসানের শিকার। তিনি ক্ষতিপূরণের আশায় ঘুরছেন, কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। তার মতো অসংখ্য উদ্যোক্তা এখন ব্যবসা বন্ধের কথা ভাবছেন।
উদ্যোক্তাদের তীব্র ক্ষোভ এবং প্রশ্নবিদ্ধ দায়বদ্ধতা
ক্ষতিগ্রস্ত অনলাইন ব্যবসায়ীরা বারবার কুরিয়ার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর বা কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না। তাদের একটাই প্রশ্ন, “এই শত কোটি টাকার অনলাইন আমের বাজারের এই ক্ষতির দায় কে নেবে?” কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর এমন চরম অবহেলা তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং অনলাইন ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে। অনেক উদ্যোক্তা ক্ষোভে কানসাটে স্টেডফাস্টের শাখা অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভও করেছেন।
ই-কমার্স খাতের জন্য অশনি সংকেত
বাংলাদেশের উদীয়মান ই-কমার্স খাতের জন্য এটি একটি গুরুতর ধাক্কা। যখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অনলাইনে ব্যবসা করে নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করছেন, তখন লজিস্টিকস খাতের এমন অব্যবস্থাপনা তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে। দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোকে তাদের সেবার মান, জবাবদিহিতা এবং প্রতিকার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আরও পেশাদার হতে হবে।





















