নতুন স্মার্টফোন তৈরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসুস। জেনফোন ও আরওজি ফোন সিরিজে আর কোনো নতুন মডেল আসবে না বলে জানিয়েছে তাইওয়ানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। খবর টেকরাডার।
তাইওয়ানে সম্প্রতি আয়োজিত কোম্পানির এক অনুষ্ঠানে আসুসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জনি শিহ জানান, ২০২৬ সালের পর থেকে নতুন কোনো মোবাইল ফোন আনার পরিকল্পনা নেই। তবে বর্তমানে বাজারে থাকা আসুসের স্মার্টফোনগুলো বিক্রি ও সাপোর্ট চালু থাকবে।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আসুস আর কোনো নতুন মোবাইল ফোন মডেল যুক্ত করবে না।’
আসুস ঠিক কোন পরিস্থিতিতে আবার স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু করবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট শর্ত বা পরিকল্পনা জানায়নি। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল বিভাগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে অনেকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন প্রযুক্তি এখন অনেকটাই পরিপক্ব। প্রতি বছর নতুন ফোনে যে পরিবর্তনগুলো আসে, সেগুলো খুব বড় বা চোখে পড়ার মতো নয়। তাই শুধু সামান্য উন্নতির জন্য নতুন করে ফোনের ডিজাইন বদলানো ও বড় পরিসরে উৎপাদনে যে বিপুল খরচ হয়, তা অনেক সময় আর লাভজনক বা প্রয়োজনীয় মনে হয় না।
এছাড়া স্মার্টফোনের দাম বাড়তে থাকায় গ্রাহকরা আগের মতো ঘন ঘন নতুন ফোন কিনছেন না। এতে করে বাজারে কম পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর জন্য নিয়মিত লাভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদন বলছে, আসুস স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষ বিক্রেতাদের মধ্যে নেই। পাশাপাশি চীনা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি বছর নতুন স্মার্টফোন বাজারে আনার ধারা ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
আর্থিক চাপের কারণে স্মার্টফোন ব্যবসা থেকে পিছু হটার ক্ষেত্রে আসুস প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। এলজি-ও দীর্ঘদিন লোকসানের মুখে পড়ে একই পথ অনুসরণ করেছিল। কোম্পানিটি প্রথমে নতুন ফোন উন্মোচন কমায় এবং পরে পুরোপুরি তাদের মোবাইল বিভাগ বন্ধ করে দেয়।
বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত কোনো অ্যান্ড্রয়েড নির্মাতা স্মার্টফোন তৈরি বন্ধ করার পর বড় পরিসরে সফলভাবে বাজারে ফিরে আসতে পারেনি। একবার ব্র্যান্ডের আলোচনা কমে গেলে এবং সফটওয়্যার সাপোর্ট দুর্বল হলে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার করা ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। জেনফোন ডিভাইসগুলো নকশা ও তুলনামূলক কম দামের ওপর জোর দিলেও দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের থেকে পিছিয়ে পড়েছিল।






















